বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারক গোলাম রসুলের ইন্তেকাল

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ০১:৩১

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার নিম্ন আদালতে রায়দানকারী বিচারক কাজী গোলাম রসুল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি......রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। গত ২৭ নভেম্বর থেকে তিনি এ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। গোলাম রসুলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তার মরদেহ দেখতে হাসপাতালে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মরহুমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক: কাজী গোলাম রসুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শোক বাণীতে বিচার বিভাগে গোলাম রসুলের অবদানের কথা স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পৃথক শোক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কাজী গোলাম রসুলের মৃত্যুতে দেশ একজন কৃতী সন্তান হারাল। তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। বিচারক কাজী গোলাম রসুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। এক শোক বাণীতে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
১৯৯৮ সালে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে গোলাম রসুল বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের এই ঐতিহাসিক মামলার রায় প্রদান করেন। ওই বছরের শেষের দিকে তিনি অবসরে যান। পরে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসাবেও কাজ করেছেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যা, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডের টিপটপ মসজিদে বাদ আসর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। মরহুমের বড় জামাতা ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী রবিবার সার্কিট হাউস বাসভবনে মরহুমের কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবাণীতে স্পিকার বলেন, কাজী গোলাম রসুল ছিলেন একজন সুবিচারক। ডেপুটি স্পিকার বলেন, কাজী গোলাম রসুল ছিলেন সময়ের সাহসী সন্তান, বিশিষ্ট বিচারক ও কর্মনিষ্ঠ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে একদল বিপথগামী সেনাসদস্য নির্মম ও বর্বরোচিতভাবে হত্যা করে? অনেক বিপত্তি পেরিয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা শেষে কাজী গোলাম রসুল ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর বিশ আসামির মধ্যে ১৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছিলেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে আসামিপক্ষ। ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ আসামিদের আপিল খারিজ করে দেয়। এরপর ওই বছরের ২৮ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে খুনীদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।