‘মানবিক-সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টি না করতে পারলে রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে না’

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:৩৩
 
                              
 
সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেছেন, যত দিন যাচ্ছে, তত আমরা মানবিক চেতনাবোধ হারিয়ে ফেলছি। ফলে সমাজের যে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টি না করতে পারলে তা বন্ধ হবে না। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছা রক্তদাতা সৃষ্টি করে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যে অনন্য দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে এর মাধ্যমে এই রক্তক্ষরণ বন্ধ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে তাদের এই উদ্যোগ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ধরে রাখছে বলেও আমি মনে করি। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন তিনি।
কমপক্ষে ১০ বার রক্ত দিয়েছেন— এমন ২৩৬ জন রক্তদাতাকে সম্মাননা জানাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম আরো বলেন, বাংলাদেশে লোকসংখ্যা বাড়ছে কিন্তু সত্যিকারের মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে মানবিক চেতনাবোধ সম্পন্ন মানুষের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে প্রকৃত মানুষ সৃষ্টির যে উদ্যোগ তা স্বেচ্ছা রক্তদাতা গড়ার মাধ্যমে সম্ভব হবে। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ। স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের পক্ষে বক্তব্য দেন উম্মে নাঈমা ঝুমা এবং নিয়মিত রক্ত গ্রহীতাদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন থ্যালাসেমিয়া রোগী মো. রকিবুল ইসলাম রুশো। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারি।
আয়োজকরা ২০২৫ সালে বাংলাদেশ পৃথিবীর সেরা ১০ জাতির এক জাতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পৃথিবীর বুকে এক অনন্য মানবিক মহাসমাজে পরিণত করার লক্ষ্যে অগ্রভাগে কাজ চলছেন স্বেচ্ছা রক্তদাতারা।
অনুষ্ঠানে যারা কমপক্ষে ১০ বার রক্ত দিয়েছেন এমন ২২০ জন এবং ২৫ বার রক্ত দিয়েছেন এমন ১৬ জন রক্তদাতাকে সিলভার মেডেল, গোল্ডেন ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও আইডি কার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া একই দিনে সবোচ্চ সংখ্যক (১০০২ ব্যাগ)  রক্তদানের জন্য কেয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজার মিজানুর রহমান খান মিজু।
উল্লেখ্য, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ২০০৩ সাল থেকে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উদ্ধুদ্ধ করতে নিয়মিত সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে।