৬৪ তে সুপারস্টার রজনীকান্ত

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:৫৬
দক্ষিণী ছবির সুপারস্টার রজনীকান্ত ৬৩ পার করে ৬৪তে পা দিলেন ।  তার জন্মদিনে মেতে উঠেছে গোটা কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু। শহর জুড়ে রীতিমত উৎসবের মেজাজ। মেগাস্টরের জন্মদিনে বিতরণ করা হচ্ছে কেক, নোটবুক ও ক্যালেন্ডার। সেই সঙ্গে আজ বিনামূলে চুলকাটার ব্যবস্থা করাও হয়েছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্যুইটারর মাধ্যমে রজনীকান্তকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে, নিরোগ ও দীর্ঘজীবনের প্রার্থনা করেছেন। তামিল, তেলগু, কন্নর, মালয়ালম, হিন্দি, ইংলিশ এমনকি বাংলা ছবি মিলিয়ে মোট ১৭০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই মহাতারকা। এদিকে, আজই মুক্তি পাচ্ছে তার সিনেমা ‘লিঙ্গা’।
রজনীকান্তের জন্ম ১৯৫০ সালের ১২ ডিসেম্বর। ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং সাংস্কৃতিক প্রতীক তিনি। চলচ্চিত্র জগতে অভিষেক করেন, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত তামিল সিনেমা “অপূর্ব রাগাঙ্গাল” (১৯৭৫) এ অভিনয়ের মাধ্যমে, এই সিনেমার পরিচালক কে.বলচন্দ্র, যার উপদেশে তিনি সিনেমাতে অভিনয় করেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্রসহ অন্যান্য দেশের সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন।
ভারতীয় শহর বেঙ্গালুরুতে বেড়ে উঠেন, রজনীকান্ত অসচ্ছল জীবনের সাথে লড়াই করে কাটিয়েছেন তার শৈশব। বেঙ্গালুরু মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের বাসের সহকারী হিসেবে কাজ করা অবস্থায় তিনি নাটকে অভিনয় করতেন। তিনি ১৯৭৩ সালে মাদ্রাজ আসেন “মাদ্রাজ ফিল্ম ইনিস্টিটিউট” থেকে অভিনয়ের উপর ডিপ্লোমা পড়ার জন্য। তামিল চলচ্চিত্রে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে করতে রজনীকান্ত একসময় অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে, ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তিনি “ অভিনয় দেবতা” হিসেবে জনপ্রিয় হন। সিনেমায় তার আচরণ এবং সংলাপের ধরন তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। “শিবাজী” সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি (US$) ৫.১৯ মিলিয়ন সম্মানী নেয়ার পর জ্যাকি চ্যানের পর এশিয়ার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক গ্রহণকারী তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।
২০১৩ সালে, তিনি ছয়টি “তামিলনাডু স্টেট চলচ্চিত্র পুরস্কার” অর্জন করেন। যার মধ্যে চারটি সেরা অভিনেতা এবং বাকি দুইটি সেরা অভিনেতা হিসেবে বিশেষ পুরস্কার এবং ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতা পুরস্কার – তামিল। তিনি ভারতের তৃতীয় বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি, তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী, উৎসাহদাতা এবং ড্রাভিডিয়ান রাজনীতিতে সেবা দানকারী। তিনি লতা রাঙ্গাচড়িকে বিয়ে করেন, ১৯৮১ সালে এক আলোচনা সভায় তাদের প্রথম সাক্ষাত হয় এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে।