জানুয়ারিতে দেশব্যাপী সমাবেশ করবে ১৪ দল

‘আগামী নির্বাচন ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে হবে’

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৮:৩১
 
 
বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের হুমকি ও ষড়যন্ত্র মোকবিলায় মাঠে নামছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল। নতুন বছরের জানুয়ারিতে দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ের সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন এ জোট। এ ছাড়া ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের পক্ষ থেকে রাজধানীতে একটি সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এ সব সমাবেশে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। এ সময় তিনি বলেন, ১৪ দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আগামী নির্বাচন সংবিধান মোতাবেক ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের মতামত গ্রহণ করা হবে না।’
বিরোধীদলের আন্দোলনের হুমকি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করতে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের জরুরি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, বিএনপি-জামায়াতের সব ষড়যন্ত্র রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে ১৪ দল। আগামী ১৫ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ করবে ১৪ দল। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত সরকার উত্খাতের যে ষড়যন্ত্র করেছিল তা আদও বাস্তবায়িত হবে না। দেশবাসী তা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামী ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবি দিবস উপলক্ষে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে এবং ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে ১৪ দল। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত চক্র উস্কানিমূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদকে উত্সাহিত করছে। অতীতেও বিএনপি জঙ্গিবাদ ও জামায়াতকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে। তাদের কারণেই জঙ্গিচক্র বিদেশে বসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার সাহস পাচ্ছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি-জামায়াত হত্যা চক্রান্তের রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করেও ব্যর্থ হয়েছে, সেই সঙ্গে আমাদের সাথে তারা সমস্ত রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে হত্যা ও চক্রান্তের রাজনীতির পথে চলে গেছে। বিএনপি-জামায়াত সম্প্রতি যে কথা বলছে, তাতে মনে হয় বর্ধমান বিস্ফোরণের চক্রান্তকারীদের সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত এখন হত্যা ও চক্রান্তের পথে হাঁটছে। তবে রাজনৈতিকভাবেই তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি বিদেশেও প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করে তারা দেশে একটি অপশক্তিকে ক্ষমতায় আনতে চায়।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা উদ্বিগ্ন হয়েছি যখন ভারতের বর্ধমান চক্রান্তের কথা শুনেছি। পার্শবর্তী দেশে কিছু জঙ্গি ও হত্যাকারী প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল। তাদের বিষয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র চলছে তাদের সমূলে উত্খাত করার জন্য ১৪ দলের নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। জনগণকেও এ জন্য সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সরকারের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সচেতন থাকতে আহ্বান জানান তিনি।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি এমপি, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নুরুল আম্বিয়া, ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, গণতন্ত্রি পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কামরুল হাসান, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বাশার মাইজ ভান্ডারী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।