বিএনপির আন্দোলনের কফিন কবরে গেছে: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৪, ২০:৪৭
 
 
 
 
 
 
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আন্দোলন করে সরকার হটানোর সামর্থ্য বিএনপির নেই। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা হলে ছাড় দেবে না সরকার। শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ছাত্রলীগ আয়োজিত শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি আরো বলেন, ‘সীমানা-জটিলতা দূর করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন দেয়া হবে। কিন্তু তারা (বিএনপি) আগে থেকেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার আভাস দিচ্ছে।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র নয় বরং বিএনপির আন্দোলনের কফিন কবরে গেছে।’
‘জনগণের জানমাল রক্ষার্থে কঠোর হাতে আন্দোলনের নামে সব নৈরাজ্য মোকাবিলা করা হবে’ উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আবারও বিএনপির হুংকার শুনতে পাচ্ছি। তারা নাকি আবার আন্দোলন করবে। কিন্তু আমি বলি— তারা আর আন্দোলন করতে পারবে না। কারণ বিএনপি আজ দল হিসেবে চরম সংকটে।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যে দলের নেতারা আন্দোলনের ডাক দিয়ে মাঠেই নামে না, তারা আবার কী ভাবে আন্দোলন করবে? নেতা না থাকলে কর্মীরা কী করবে? পারস্পরিক বিশ্বাস, সন্দেহে তারা আজ নিজেরাই সংকটে।’
সেতুমন্ত্রী ছাত্রলীগ নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, ‘গত ২৮ বছর ধরে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কাদের দখলে, ছাত্রলীগের বর্তমান নেতাদের প্রশ্ন করতে চাই। এর মধ্যে ১১ বছর ধরে তো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়!’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের ধ্যান-ধারণা ও আদর্শের অনুসারীরা চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চালায়। একাত্তরের হানাদার বাহিনীর দোসরদের কথাই সেখানে আইন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও একই অবস্থা। এ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ একটি মিছিল পর্যন্ত দিতে পারে না। ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন শক্তির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার কারণে এমনটি হচ্ছে।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘পরাজিত শক্তির কাছে আমরা কেন দুর্বল, বর্তমান নেতৃত্বকে তা ভাবতে হবে। কারণ খুঁজে বের করতে হবে। দুর্বলতা চিহ্নিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিতে হবে— এর কোনো বিকল্প নেই।’
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান। সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফের পরিচালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মান্নান, মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. নুজহাত চৌধুরী, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।