মত্স্যজাত পণ্য বিশেষত চিংড়ি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে সন্তুুষ্ট হতে পারছে না ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। আগামী এপ্রিলে আরো একটি প্রতিনিধি দল প্রক্রিয়াকরণ কারখানা পরিদর্শনে আসছে। যদিও গত প্রায় দুই দশক ধরে এ ধরনের পরিদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মত্স্যজাত পণ্য বিশেষ করে চিংড়ি রফতানির অন্যতম প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো। কিন্তুু এসব দেশে রফতানির ক্ষেত্রে সঠিক মান বজায় রাখা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এন্টিবায়োটিক ও রাসায়নিকের ব্যবহার হয়ে থাকে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এর আগে বাংলাদেশকে জানিয়েছিল। যদিও সংশ্লিষ্ট সরকারি একটি সূত্র বলেছে, বিষয়টিকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ ব্যাপারে সরকার পৃথক ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে। এতে উত্পাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াকরণ পর্যন্ত কঠোর মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।
এদিকে, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেও মান সম্পর্কে সন্তুুষ্ট হতে পারেনি ইইউ প্রতিনিধি দল। আগামী এপ্রিলে আরেকটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে এসে দেখবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় কি না। শুধু চিংড়ি নয়, অন্যান্য মত্স্যজাত পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বসহ পরিদর্শন করবে ঐ দলটি। ইইউর ফুড এন্ড ভেটেরেনারি অফিস কর্তৃক পাঠানো এই দলটির রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যত্ রফতানির বাজার।
এদিকে, চিংড়ি রফতানিকারকরা বলছেন, এটি রুটিন ওয়ার্ক। তবে সরকার যদি কোন কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে তা অবশ্যই অনুসরণ করা হবে। কারণ, রফতানি বাড়লে তা দেশের জন্যই হিতকর। রফতানিকারকদের মতে, তারা এখনো ইউরোপীয় মান বজায় রেখেই রফতানি করে আসছেন। হয়তো কিছু ক্ষেত্রে আরো বেশি মান নিশ্চিত করার কথা তারা বলতে পারে। আমরাও চাই বাংলাদেশি পণ্যের মান ভালো হলে ইউরোপীয় বাজার কেন, অন্য বাজারেও রফতানি বাড়বে।
প্রসঙ্গত, এর আগে ইউরোপের বাজারে রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম ধাতব পদার্থ ব্যবহার করা হত। তা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ দিয়েছে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কক্সবাজার, খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর ও নড়াইলে সাধারণত রফতানিযোগ্য চিংড়ির চাষ হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি তৃতীয় প্রধান রফতানি আয়ের খাত। সর্বশেষ গত বছরে দেশে প্রায় ৬৪ কোটি ডলারের চিংড়ি ও মত্স্যজাত পণ্যের রফতানি হয়েছে।
