৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের পথে ১০ বড় চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ২৩:৫৩

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তির বছরে অর্থাত্  আগামী ২০২১ সালে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে কমপক্ষে ১০টি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ যত দ্রুত সমাধান করা যাবে এ লক্ষ্য অর্জনের পথ তত সুগম হবে। অন্যথায় এ সহজসাধ্য লক্ষ্যটিও কঠিন হতে পারে। গত রবি থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনের ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের বিভিন্ন আলোচনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় এসব চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের পোশাক খাতের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে এ খাতের ইমেজ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রথমবারের মত এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গতকাল শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিজিএমইএ এসব চ্যালেঞ্জ ও তা থেকে উত্তরণে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে। রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে এ সাংবাদিক সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে শুরুতেই উঠে এসেছে অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুতের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংকের সুদের হার কমানো, কারখানার কর্মপরিবেশ (কমপ্লায়েন্স) নিশ্চিত করা। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সামর্থ্য বাড়ানো, শ্রমিকের প্রতি উদ্যোক্তাদের মনোভাবের পরিবর্তন, শ্রমিকের দক্ষতা উন্নয়ন ও তাদের মনোভাব পরিবর্তনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা সরিয়ে নেয়া এবং ছোট কারখানার জন্য নীতিমালা তৈরি, বিশেষ অর্থনৈতিক জোন (এসইজেড) প্রতিষ্ঠা ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে বায়ারদের এগিয়ে আসাটাও জরুরি। এর বাইরে আরো কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, পর্যায়ক্রমে সব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিতে ৫০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করবে - এতে কোন সন্দেহ নেই।
অ্যাপারেল সামিট সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক বিদেশি এ সম্মেলন উপলক্ষে ঢাকায় এসেছেন। তারা কারখানা ঘুরে দেখেছেন। বিস্মিত হয়েছেন। বুঝতে পেরেছেন যে, রানা প্লাজাই বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র নয়। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ যে স্বল্পোন্নত দেশ তা মনেই হয়নি। তিনি আরো বলেন, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর রপ্তানিকারকদের প্রতি পোশাকের দাম কমানোর চাপ ছিল। দাম কমাতে হয়েছে। এই সময়ে মজুরি বাড়লেও পণ্যের দাম বাড়েনি।
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, তারা (এএফএল-সিআইও নামে শ্রমিক অধিকার সংগঠন) বাংলাদেশে ট্রেড ইউনিয়নের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু সেখানে সরকারি খাতের কারখানায় ৩৬ শতাংশ আর বেসরকারি খাতের কারখানায় মাত্র ৭ শতাংশ ট্রেড ইউনিয়ন আছে। শিল্প বিষয়ে আইএলও (আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা) কনভেনশনের বেশিরভাগই বাংলাদেশ অনুস্বাক্ষর করলেও দুটি বাদে অন্যগুলো তারা অনুসমর্থন করেনি। সমপ্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাসটেইনেবিলিটি কমপ্যাক্ট-এর একটি বৈঠকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ইপিজেডে ট্রেড ইউনিয়নসহ আরো কয়েকটি শর্ত দেয়া হয়েছিল। আমরা তা মানিনি। আমরা এখন আর আগের মত নই। মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছি। একটি কারখানায় ৫ থেকে ১০ জন শ্রমিক মিলেই ট্রেড ইউনিয়ন হতে পারে না।
এ সময় বিজিএমইএ সভাপতি ঢাকা অ্যাপারেল সামিটের উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অ্যাপারেল সামিট উপলক্ষে আয়োজিত ৯টি সেমিনারে ৮৫ জন বক্তা অংশ নেন। এর মধ্যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২৫টি ব্র্যান্ডের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ এর অধিক শিক্ষাবিদ অংশ নেন। এসব সেমিনারে মোট ৬ হাজার ব্যক্তি অংশ নেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি, শহীদুল্লাহ আজিম, রিয়াজ বিন মাহমুদ, সাবেক সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, ফারুক হাসান নাট্যকার আফজাল হোসেন প্রমুখ।