তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ হারিয়েছেন। মিথ্যাচারকে প্রধান রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তিনি মিথ্যাচারে ডুবে যাচ্ছেন। মিথ্যাকে শিল্পে পরিণত করেছেন। ২০০৮ সালে নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি নেত্রী অস্বাভাবিক রাজনীতির পথ বেছে নিয়েছেন।
রবিবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। গত শনিবার নারায়ণগঞ্জে এক জনসভায় খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অসত্য, ভিত্তিহীন ও চরম মিথ্যাচার। ইতিহাস-বিকৃতি, মিথ্যাচার, নাশকতা-অন্তর্ঘাতের পথ অবলম্বন করে তিনি নিজেকে গণতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে মাইনাস করেছেন।
হাসানুল হক ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনো মৃত্যুকে ভয় পাননি। বঙ্গবন্ধু মৃত্যুকে ভয় করতেন—এমন অপবাদ বঙ্গবন্ধুর চরম শত্রুও তাকে দিতে পারবে না। এবং মৃত্যুকে ভয় করতেন না বলেই বঙ্গবন্ধু গণভবন বা বঙ্গভবনে না থেকে ৩২ নম্বরেই থাকতেন বরং জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়া মৃত্যুভয়ে এতই ভীত ছিলেন যে, তারা বঙ্গভবন ও প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বাসভবনে না থেকে ক্যান্টনমেন্টে থাকতেন।
মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জের জনসভায় অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ যত খুন করেছে, মুক্তিযুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায়নি। এটি পাগলের প্রলাপ নয়— বেগম জিয়ার বিশ্বাস। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি এবং ৩০ লাখ শহীদের প্রতি তার ন্যূনতম সম্মান নেই। মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করতে গিয়েই তিনি এ কথা বলেছেন। ইতিপূর্বে বেগম জিয়ার হাজার হাজার কর্মী হত্যার অভিযোগ ৩১০ জনে নেমে আসায় তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সেই সাথে বেগম জিয়ার প্রতি আমার খোলা চ্যালেঞ্জ, ৩১০ জন নিহত হয়ে থাকলে কবে কোথায় নিহত হয়েছে, তাদের নাম-তালিকাসহ প্রকাশ করুন।
ইনু বলেন, বর্তমান আমলে কোথাও খুন-গুমের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী তদন্ত হচ্ছে, কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। কাউকে আইন ও বিচারের ঊর্ধ্বে রাখা হচ্ছে না। বেগম জিয়ার আমলে অপারেশন ক্লিন হার্টকে যেভাবে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে, সেভাবে এই আমলে কাউকে দায়মুক্তি দেয়া হয়নি। খুনিদের দায়মুক্তি দেয়া তাদের সংস্কৃতি। এ সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসেছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, জিয়া ক্যান্টনমেন্টগুলোকে কসাইখানা বানিয়েছিল, আর বেগম জিয়া একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। শাহ এ এম এস কিবরিয়া, আহসান উলাহ মাস্টার, মমতাজ, মনজুরুল ইমামসহ বেছে বেছে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যা করা হয়েছিল।
হাসানুল হক ইনু বলেন, বেগম জিয়া এক কাঁধে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদ-সন্ত্রাসবাদের বোঝা, আরেক কাঁধে যুদ্ধাপরাধীদের বোঝা নিয়ে ক্ষমতায় থাকাকালে দেশ ডুবতে বসেছিল। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের সাথে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে যুক্ত করে দেশকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে একটি বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে গিয়েছিল তারা।
