শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লো ছাত্রলীগ। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। কথা কাটাকাটির জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘চুজ ফ্রেন্ড উইথ কেয়ার (সিএফসি)’ ও ‘ভার্সিটি এক্সপ্রেস (ভিএক্স)’-এর কর্মীদের মধ্যে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এতে তাপস সরকার নামে এক ছাত্রলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও চার জন।
তাপস সরকারের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার বিষ্ণপুর গ্রামে। বাবার নাম বাবুল সরকার, মায়ের নাম অঞ্জলি সরকার। আহতরা হলেন ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক আলাউদ্দিন আলম, ছাত্রলীগ কর্মী উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের আল-আমিন রিমন, মৃত্তিকা বিজ্ঞানের সাব্বির হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ছাত্রলীগের সকল গ্রুপ এক সাথে মিলিত হয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হলে ফিরছিল। এসময় কথা কাটাকাটির জের ধরে ভিএক্স ও সিএফসি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ভিএক্স কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জালাল এবং সিএফসি কর্মীরা শাহ আমানত হলে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপ দেশীয় পিস্তল ও অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিএফসি কর্মী তাপস সরকার গুরুতর আহত হয়। এছাড়া পাথরের আঘাতে আরো চার জন আহত হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাপসকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে তাপসের মৃত্যর খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে দুই গ্রুপ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় দুই গ্রুপই বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিছোঁড়ে। দুপুরের দিকে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ শাহ জালাল হলে তল্লাশি চালিয়ে ভিএক্স’র ২৭ কর্মীকে আটক করে হাটহাজারী মডেল থানায় নিয়ে যায়।
সিএফসি নেতা ও ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ-সভাপতি অমিত কুমার বসু বলেন, কোন সংগঠনের নেতা হিসেবে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমি তাপসের হত্যার বিচার চাই।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দুই হলে তল্লাশ
সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ জালাল এবং শাহ আমানত হলে তল্লাশী চালিয়েছে পুলিশ। এসময় শাহ জালাল হল থেকে ৭.৬৫ মি.মি. এর একটি পিস্তল, ১১টি রামদা, ছয় রাউন্ড গুলি, পিস্তলের একটি ম্যাগজিন, দুটি ছুরি, বেশ কিছু জিহাদি বইসহ কয়েক বস্তা পাথর উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ভিএক্স কর্মী রুবেলকে আটক করে পুলিশ। শাহ আমানত হল থেকে দুই বস্তা পাথর ও কিছু লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
তল্লাশীর ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত রাখার স্বার্থে তল্লাশী অভিযান চলবে। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ২০ থেকে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কেউ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তদন্ত কমিটি গঠ
সংঘর্ষে ছাত্র হত্যার ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে ছাত্র উপদেষ্টা ড. খান তৌহিদ ওসমানকে। ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপাচার্য ড. আনোয়ার উল আজিম আরিফ বলেন, আপাতত ক্যাম্পাস স্বাভাবিক থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব ছোট-খাট ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রশ্নই উঠে না।
