রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:০৭

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে ফুল দিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। রাষ্ট্রপতি গতকাল সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির জন্য জীবন উত্সর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রপতি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময়ে বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে।
রাষ্ট্রপতি ফুল দেয়ার পর যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্যদের কাছে হেঁটে যান ও তাদের কুশলাদি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক তাকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় মন্ত্রিসভার সদস্যবর্গ এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে মাটির কৃতী সন্তানদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।
মন্ত্রিসভার সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে দলীয় প্রধান হিসেবেও শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আরো একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের ভালোমন্দের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী পরে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
এ সময়ে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় স্থানীয় দোসরদের সহায়তায় পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী অধ্যাপক, সাংবাদিক, ডাক্তার, শিল্পী, প্রকৌশলী ও লেখকসহ দুশ’রও বেশি বাঙালিকে তুলে নিয়ে চোখ বাঁধা অবস্থায় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, নাখালপাড়া, রাজারবাগসহ নগরীর বিভিন্ন টর্চার সেলে নিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন বধ্যভূমি বিশেষ করে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তাদের গণহারে হত্যা করে।