বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৫৯

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় দেশটিতে শনিবার বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেশটির চলমান বিক্ষোভের মধ্যে এদিনের বিক্ষোভই সবচেয়ে বড় ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিক্ষোভ সমাবেশ পরিণত হয় মানুষের মহাসমুদ্রে। বিক্ষোভে সবার জন্য ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয় এবং পুলিশের বর্ণবাদী আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। খবর রয়টার্স ও সিএনএন’র।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিরাট বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক এবং বোস্টনেও পুলিশের হাতে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে। মানবাধিকার সংগঠক রেভারেন্ড আল শার্পটন প্রতিষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক’ সকলের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ডাক দেয়। এই ডাকে সাড়া দিয়ে ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, বোস্টন, লসএঞ্ছেলস, ফিলাডেলফিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, আটলান্টা, মিসৌরি, ফিনিক্সসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়েছে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে শনিবার রাতে নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার এবং সুপ্রিম কোর্ট ভবনের সামনে হাজারো জনতার শ্লোগান ধ্বনিত হচ্ছিল।
অপরদিকে ওয়াশিংটন ডিসির ডাউন টাউনের ফ্রিডম প্লাজা থেকে গগনবিদারি স্লোগানে আশপাশের এলাকা প্রকম্পিত করে কয়েক হাজার মানুষের একটি মিছিল হোয়াইট হাউজের পাশ দিয়ে ক্যাপিটল হিলের সামনে জড়ো হয়। বিচার নাই, শান্তি নাই, বর্ণবাদী পুলিশ চাই না, হাত তোল, গুলি করো না ইত্যাদি শ্লোগানের পাশপাশি কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মর্যাদাপূর্ণ, সব মানুষকে সমমর্যাদায় সৃষ্টি করা হয়েছে ইত্যাদি স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেন তারা।

বিক্ষোভে নিহত কৃষ্ণাঙ্গ ট্রেভর মার্টিন, মাইকেল ব্রাউন, তামির রাইস, এরিক গার্ণারসহ নাম না জানা অনেকের পরিবারে সদস্যরা সামিল হন। এরিক গার্ণারের মা গুয়েন কার বলেন, এখানে সাদা, কালোসহ সব ধর্মের মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। সবসময় সব প্রতিবাদে এভাবে অংশ নিতে হবে। মাইকেল ব্রাউনের মা লেসলি এম স্পাডেন বলেন, এটা তো মানুষের সমুদ্র। তিনি সরকার এবং পুলিশের উদ্দেশে বলেন, এ সমুদ্র তারা যদি না দেখেন এবং তাদের যদি এরপরও বোধোদয় না হয় তাহলে আমরা আর কি করতে পারি। পুলিশ বিক্ষোভস্থল থেকে ২৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। গত ১৭ জুলাইয়ে ছয় সন্তানের বাবা এরিক গার্ণারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু গ্র্যান্ড জুরি গত বুধবার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের রেহাই দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর বিক্ষোভে ফুঁসে কৃষ্ণাঙ্গসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। এছাড়া মাইকেল ব্রাউন নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকেও রেহাই দেয়া হয়।