রংপুরের পীরগাছা উপজেলার সরকারিভাবে ঘোষণা করা একমাত্র মৎস্য অভয়াশ্রম মাষাণ কুড়া নদী। সরকারি নিয়মানুযায়ী মৎস্য অভয়াশ্রমে আশ্রয় নেওয়া মা মাছসহ যেকোনো ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। অথচ এ নদীতে কারেন্ট জাল ও বেড় জাল দিয়ে অবাধে মা ও পোনা মাছ নিধন করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, লিজ নেওয়া হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দেদারছে চলছে মাছ শিকার। অভয়াশ্রমে বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমেও মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মৎস্য অভয়াশ্রম মাষাণ কুড়া নদীটি উপজেলার কান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত। সরকারিভাবে উপজেলা গর্ভন্যান্স প্রজেক্টের আওতায় ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ওই মৎস্য অভয়াশ্রম উদ্বোধন করা হয়। প্রতি বছর বর্ষার পানি কমে যাওয়ার পর রুই, কাতলা, মৃগেল ও বোয়ালসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ অভয়াশ্রমে আশ্রয় নেয়। এসব মাছের মধ্যে প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত মাছের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারিভাবে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়।
নদীর বিভিন্ন স্থানে ৫/৬টি মৎস্য অভয়াশ্রম নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর থেকেই অভয়াশ্রমগুলো যথাযথ তদারকি করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে মাছেদের এই অভয়াশ্রমটি।
নদী পাড়ের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাষাণ কুড়া নদীতে একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় অসাধু মৎস্যজীবীদের সহযোগিতায় কারেন্ট জাল ও বেড় জাল দিয়ে মাছ নিধন করছে। জালে ধরা পড়ছে বোয়াল, কাতলা, টেংরা, শোল, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ। অবাধে মাছ শিকারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
সরকারি ভাবে অভয়াশ্রম ঘোষণার পরে নদীতে সরকারি অর্থায়নে বিপুল পরিমাণ বাঁশের খুঁটি, গাছ ও গাছের ডালপালা দিয়ে অভয়াশ্রম তৈরি করা হয়। অভয়াশ্রম বোঝার জন্য বাঁশের খুঁটির মাথায় লাল নিশান লাগানো ছিল। বর্তমানে সেখানে অভয়াশ্রমের কোনো চিহ্ন নেই।
নদী পাড়ের ঈসা খাঁ বলেন, মাছগুলো বেড়ে ওঠার আগেই প্রকাশ্যে নিধন করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগকে অনেকবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু তারা অজ্ঞাত কারণে চুপ থাকায় অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছে না।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য প্রশান্ত কুমার মিশ্র মংলু জানান, একটি চক্র মাঝিদের সহযোগিতায় অভয়াশ্রমে প্রকাশ্যে দিনের পর দিন মাছ ধরছে। তারা হাইকোর্ট থেকে লিজ পেয়েছে এমন কথা প্রচার করে অভয়াশ্রম নিশ্চিহ্ন করে ফেলেছে।
আরো পড়ুন: পাকিস্তানে হামলায় ৩০০ বিচ্ছিন্নতাবাদী নিহত, দাবি ভারতের
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভয়াশ্রম থেকে মাছ শিকারের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তবে সেখান থেকে মাছ শিকার করা নিষিদ্ধ এটি স্বীকার করেন।
রংপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘অভয়াশ্রম লিজ দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। সরকারি ভাবে নির্মিত অভয়াশ্রমে মাছ ধরাও আইনত নিষিদ্ধ। অভয়াশ্রম ধ্বংসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
ইত্তেফাক/অনি
