‘আর কোনো দালাই লামা নাও আসতে পারেন’

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:২১
 
 
 
তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা স্বীকার করেছেন, তিনি এই খেতাবধারী শেষ ব্যক্তি হতে পারেন। তিনি এটাও বলেছেন, কয়েক শতাব্দীর পুরনো ঐতিহ্যটা ‘জনপ্রিয় দালাই লামার সময়ে’ শেষ করাটাই উত্তম হবে। খবর বিবিসির।
 
বিবিসির ‘নিউজসাইট’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাত্কারে দালাই লামা তার কোনো উত্তরসূরি না থাকতে পারে বলে জানান। তিনি বলেন, তার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি এবং তিব্বতি জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে আরেকজন দালাই লামা আসবে কি-না। এই পদে আর কোনো রাজনৈতিক দায়িত্ব অন্তর্ভুক্ত নয় বলে তিনি জানান।
 
উল্লেখ্য, লবসাঙ্গ সাঙ্গে নির্বাসিত তিব্বতের নির্বাচিত সরকারের কাছে ২০১১ সালে এসব দায়িত্ব হস্তান্তর করেন দালাই লামা।
 
ছাত্রদের নেতৃত্বে হংকংয়ের সাম্প্রতিক গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ নিয়ে যুক্তরাজ্য অর্থনৈতিক কারণে চীনের সঙ্গে একটি নরম পদ্ধতি গ্রহণ করেছে বলে দালাই লামার ধারণা।  তিনি আরো বলেন, চীনে গণতন্ত্রকে উত্সাহিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরো বেশি কিছু করার আছে। তিব্বতি এই নেতা বলেন, ‘চীন খুব ভালোভাবে চায় মূলধারর অর্থনীতিতে যুক্ত হতে। তাদের স্বাগত জানানো উচিত, কিন্তু একই সময়ে চীনের নিজের স্বার্থে চীনকে মূলধারার গণতন্ত্রে নিয়ে আসতে মুক্ত বিশ্বের একটি নৈতিক দায়িত্ব আছে।’
 
১৯৫৯ সালে তিব্বতের একটি গণ অভ্যুত্থান ঠেকাতে চীনা সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করলে ভারতে পালিয়ে যান বর্তমান দালাই লামা তেনজিং গিয়াতসো। সেই থেকে তিনি ভারতে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। শান্তিতে নোবেলবিজয়ীকে একজন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ হিসেবে বিবেচনা করে চীন। যদিও এখন তিব্বতের স্বাধীনতার দাবি ছেড়ে স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবির মতো ‘মধ্যপন্থী পথ’ বেছে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু এরপরও চীনা নীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি।