বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন ‘বিএনপি নেত্রী প্রায়ই বলেন—এরশাদ খুনি। আপনাকে বলব—আগে আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখুন। ক্ষমতায় থাকাকালে আপনি কত মানুষকে হত্যা করেছেন, সেটির কোনো হিসাব নেই। একদিন আমরা এর হিসাব নেব, হিসাব আপনাকে দিতে হবে। তখন মানুষ জানবে—আপনি না এরশাদ খুনি।’ বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
এরশাদ বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী ক্ষমতায় থাকাকালে গাইবান্ধায় সারের জন্য আসা ১৮ জন কৃষককে হত্যা করেছিলেন। তিনি বাংলা ভাই সৃষ্টি করেছেন, জঙ্গিবাদের সূত্রপাত করেছেন। কানসাটে বিদ্যুতের জন্য আসা ২০ জন মানুষকে হত্যা করেছিলেন। সুযোগ পেলে খুনের শিকার এ সব মানুষের জন্য একদিন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করব।’
এরশাদ বলেন, এ দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছিল বিএনপি। ’৯১ সালে ক্ষমতায় এসে জিঘাংসার রাজনীতির মাধ্যমে তারা আমাদের সকল অর্জন ধূলিস্যাত্ করে দিয়েছিল।’
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘খুন-গুম করত পাকিস্তানিরা। এখন তো স্বাধীন দেশ, সেখানে খুন-গুম হয় কী করে! এখন কেন ছাত্ররা খুন হবে? কেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে? একাত্তর-পূর্ব দুঃশাসন নতুন করে আবার ফিরে এসেছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল দুঃশাসন থেকে মুক্তি পাওয়া। আমরা মুক্তি পাইনি। জাতি আজ হতাশ। স্বপ্নের বদলে আমরা এখন দুঃস্বপ্ন দেখছি।’
ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপা আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে পারলেই সত্যিকারের উন্নয়ন আসবে।’
দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘খুন-গুম-অপহরণ ও দুর্নীতি-দুঃশাসনের দায় জাপা দেনে না।’
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—সাইদুর রহমান ট্যাপা, অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান, এস এম ফয়সল চিশতি, সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, বাহাউদ্দিন আহমেদ বাবুল, জহিরুল আলম রুবেল, মোবারক হোসেন আজাদ ও বেলাল হোসেন প্রমুখ।
