শান্তিচুক্তির ফিলিস্তিনি খসড়া প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৬:৪৩
   
 
 
 
ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তির জন্য সময়সূচি ঠিক করে একটি খসড়া ফিলিস্তিনি পরিকল্পনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার জর্দানের উপস্থাপিত এ খসড়ায় এক বছরের মধ্যে একটি চুক্তি এবং ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ অধিকৃত ভূমি থেকে ইসরায়েলি বসতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। খবর আল-জাজিরা, বিবিসি ও এনডিটিভির।
ওই খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের ছয় দিনব্যাপী যুদ্ধের আগের সীমানা, নিরাপত্তা চুক্তি এবং জেরুজালেমকে দুই রাষ্ট্রের ভাগকৃত রাজধানী হিসেবে ধরে বেশ কিছু মানদণ্ডের ভিত্তিতে সমঝোতামূলক একটি সমাধান করা উচিত। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে আরো আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নিশ্চিত করতে তাড়াহুড়া করে নিরাপত্তা পরিষদে ভোটাভুটি না চাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে জর্দান।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের জন্য বৈরী বিবেচনা করে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের প্রস্তাবগুলোতে ভেটো দিয়েছে। জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ না থাকায় ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের পক্ষে কোনো প্রস্তাব তোলা সম্ভব না। এ কারণেই ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ জর্দানকে তাদের পক্ষ থেকে জাতিসংঘে প্রস্তাবটি তোলার আহ্বান জানায়।
এ দিকে, এই প্রস্তাব নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি কোনো ‘সমস্যা নেই’ বললেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটেনি। কেরি বলেন, ‘আমরা জানি না প্রস্তাবে কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। এখনো আমরা সারাংশও দেখিনি।’ তিনি বলেন, ‘প্রস্তাবের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আপত্তি ছিল না। ভাষাগত বিষয়ে কিছু জটিলতা ছিল মাত্র। কিন্তু সময়ে সময়ে সেগুলোয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।’ প্রস্তাবনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়নি বলেও জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছিল, ফিলিস্তিনি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদে নিজেদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জেন পিসাকির মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
এ দিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই খসড়া প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এ ধরনের প্রচেষ্টা ইসরায়েলের নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমরা এ পদক্ষেপ প্রতিহত করব।’