জাহাজডুবির ক্ষতি মোকাবেলায় আমরা বসে নেই: পরিবেশ মন্ত্রী

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৩:৫১
 
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, সুন্দরবনে শ্যালা নদীতে তেলবাহী ট্যাংকার ডুবে পরিবেশ দূষণের ঘটনা বাংলাদেশের জন্য বড় হলেও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে তা নগন্য। এটি এখন আর কোনো একটি মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। তবে এ ঘটনায় সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আমরা বসে নেই। যে যার অবস্থান থেকে কাজ করছেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনে তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় কেবল আমাদের সরকার নয় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য ইতিমধ্যে আগ্রহ দেখিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
লিমায় আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগদানশেষে বুধবার রাতে দেশে ফিরে আজ অফিস করেন। সকালে অফিসে গিয়ে তিনি প্রথমে মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসেন। বৈঠককালে মন্ত্রী তেলবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।
পরে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি শ্যালা নদী দিয়ে নৌচলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিকল্প হিসেবে অপর দুইটি নদী নৌযান চলাচলের জন্য ড্রেজিং করার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে সেই শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল চালু ছিল। এটা খুবই দু:খজনক। তেলবাহী ট্যাংকার ডুবির কারণে সুন্দরবনের পরিবেশ দূষণে বিদেশীদের সহায়তার আগ্রহ প্রসঙ্গে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, বিদেশীদেও কোন সহায়তা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি প্রয়োজন। এজন্য ইআরডি কাজ করছে।
তিনি বলেন, সুন্দরবনের এই নৌদুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত কমিটির সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি
এদিকে তেলবাহী ট্যাংকারডুবির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগের নয় জনের সাথে আরো চারজনকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ১৩ সদস্যের কমিটির সকলের মতামত পাওয়ার পর আগামী রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা ছিল। কমিটির আহবায়ক এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নুরুল করিম জানান, প্রতিবেদন চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তেলের দুষনের কারণে সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কোন জলজ প্রাণী মারা যাওয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ধরণের ঘটনা সুন্দরবনে এর আগে কখনো ঘটেনি। ফলে ক্ষতি নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা দরকার। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র ক্ষুণ্ণ হতে পারে এমন নৌযান চলাচল বন্ধের সুপারিশ করা হয়েছে।