মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেকমন্ত্রী সরদার আমজাদ হোসেন (৮৬) আর নেই।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।
তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্নীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। নিহত সরদার আমজাদের বড় ছেলে সরদার সানিয়াত হোসেন পিতার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে জানান, তাঁর জানাজা বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পারিবারিকভাবে বসে দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জানান, মঙ্গলবার হ্যার্টের সমস্যার কারণে তার পিতাকে অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল।
সরদার আমজাদ হোসেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হামিরকুত্সা (আলোকনগর) গ্রামের মৃত মোহাম্মাদ আলী সরদারের ছেলে। ছাত্রজীবন থেকে তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। ভাষা আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলন, উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি রাজশাহীর বাগমারা-মোহনপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে একাধিকবার আওয়ামী লীগ, আট দলীয় জোট (বাকশাল) ও জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি একাধিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭২ সালে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কমিটিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (রাকসু) নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে হেরে যান। তার মৃত্যুতে এলাকার বিভিন্ন রাজনীতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শোক প্রকাশ করেন।
