নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শেষাবধি চূড়ান্ত কর্মসূচি হিসাবে ঢাকা অবরোধ করার টার্গেট নিয়েছে বিএনপি। ’কি কর্মসূচি দেয়া যায়’?-এমন সিদ্ধান্তহীনতার আবর্ত পেরিয়ে দলের হাইকমান্ড সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র। এনিয়ে বেগম খালেদা জিয়া তার দলের কয়েকজন নেতা এবং সমমনা পরামর্শকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। কি কর্মসূচি দিলে সরকারের কি প্রতিক্রিয়া হবে,কোন কর্মসূচিতে দাবি মানতে বাধ্য করা যাবে- মূলত এই বিষয়গুলো নিয়েই তিনি আলোচনায় মতামত নিয়েছেন।
এদিকে বিএনপি জানুয়ারি থেকে আন্দোলনের পরিকল্পনা করলেও হাইকমান্ডের এবারের মূল ’ভরসা’ ঢাকা মহানগর কমিটি এখনো প্রস্তুত নয়। ইতিমধ্যে থানায় থানায় সম্মেলন করার চিন্তাও বাদ দিয়েছেন দলের দায়িত্বশীল নেতারা।
দলের দায়িত্বশীল একজন সিনিয়র নেতা ইত্তেফাককে জানান,আন্দোলন ঢাকা ঘিরে। তাই ঢাকাকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এই মহানগরীর তিনি প্রবেশ পথ টঙ্গি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং সাভার-আমিনবাজার এলাকায় পথ বন্ধ করে সেসব স্থানে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন। আর ঢাকায় হবে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে গণ অবস্থান। এ অবস্থান চলবে সরকার দাবি না মানা পর্যন্ত। খালেদা জিয়া গৃহ-অন্তরীণ হলে সিনিয়র নেতারা নির্দেশনা দেবেন। কে কিভাবে নির্দেশনা দিবেন তা নিয়ে এখনো কোন কিছু চূড়ান্ত হয়নি। এবিষয়ে সম্ভবত: এই মাসের শেষের দিকে দলের স্থায়ী কমিটির যে বৈঠক হতে পারে সেখানে আলোচনা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার, টঙ্গি-জয়দেবপুর এলাকার নেতাদের এই মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষ থেকে যে কর্মসূচি দেয়া হবে তা কার্যকর করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রস্তুতির অংশ হিসাবে ১৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সমাবেশ করেছেন খালেদা জিয়া । ২৭ ডিসেম্বর যাবেন গাজীপুরে। সেখানে তিনি দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
তার আগে ঢাকার আশপাশের কয়েকটি জেলায় গণসংযোগ শেষ করেছেন খালেদা জিয়া।
বেগম জিয়া সম্প্রতি যুবদলের সঙ্গে আন্দোলনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে বলেছেন,’এবারের আন্দোলন হবে কার্যকর কর্মসূচির সমন্বয়ে স্বল্পমেয়াদি। ঝটিকা এ আন্দোলনে সবাইকে মাঠে থাকতে হবে জীবনবাজি রেখে।’
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুইজন নেতা জানান, সরকারের প্রতি গণঅনাস্থা জানাতে আগামী ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে টার্গেট রাখা হয়েছে। ঐ দিন ‘কালো দিবস’কে কেন্দ্র করে কালো পতাকা মিছিল ও রাজপথে শোডাউন করা হবে। এতে বাধা দিলে ৬ ও ৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে ইতিমধ্যে বেগম খালেদা জিয়া দলের স্থায়ী কমিটি, সহ-সভাপতি, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, দল সমর্থিত চিকিত্সক সংগঠন, প্রকৌশলী, স্বেচ্ছাসেবক দল,যুবদল, শিক্ষাবিদ ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছেন। এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর ’৯০র ডাকসু ও সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য কনভেনশন করেছেন তিনি। ২১ ডিসেম্বর সারাদেশ থেকে আগত ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’ বক্তব্য রাখবেন তিনি।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শিগগিরই সরকার পতনে লাগাতার কঠোর কর্মসূচি দেবে ২০ দল। তবে কি কর্মসূচি দেয়া হবে তা এখন বলা যাবে না। আমাদের আন্দোলন চলমান। আন্দোলন থেমে নেই।
তবে ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য সচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল দাবি করলেন,তারা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছেন। তিনি বলেন, এবারের আন্দোলনে ঢাকায় নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। ঢাকা শহরের সাংগঠনিক শক্তি প্রায় পুরোপুরি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
