প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর সকল সদস্যকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এই বাহিনীর সদস্যগণ দেশের সীমান্তরক্ষা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তাসহ দেশগঠনমূলক কাজে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। 'বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দিবস-২০১৪' উপলক্ষে শনিবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতর প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ অভিবাদন গ্রহণ শেষে বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে এ বাহিনীর সদস্যগণ মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য এই বাহিনীর দুজন সদস্য বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। ১১৯ জন সদস্য পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য খেতাব। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে এ বাহিনীর ৮১৭ জন অকুতোভয় সদস্য উৎসর্গ করেছেন তাঁদের জীবন। সমগ্র দেশবাসীর সাথে আমি তাঁদের এ আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ’কে একটি আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ আইন-২০১০’ প্রণয়ন করেছে। বিজিবি’র নতুন সাংগঠনিক কাঠামো ও জনবল অনুমোদন এবং পদবি কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বাহিনীর কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য চারটি রিজিয়নের আওতায় কমান্ড স্তর বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। নতুন চারটি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়ন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। বাহিনীর নিজস্ব র্যাঙ্ক-ব্যাজ প্রবর্তন করে বিজিবি’র স্বকীয়তা, সৌকর্য ও আস্থাকে সমুন্নত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তে বিজিবি’র অপারেশনাল কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বাহিনীর সর্বনিন্ম পদ থেকে সুবেদার মেজর পর্যন্ত সদস্যদের ৩০% সীমান্ত ভাতা, রেশন বৃদ্ধি, চিকিৎসা সুবিধা বৃদ্ধি এবং আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পদোন্নতিযোগ্য সদস্যদের পদোন্নতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমি আশা করি, এ বাহিনীর সদস্যগণ সততা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সাথে তাঁদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখবেন। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে পবিত্র আমানত মনে করবেন এবং দেশ ও জাতির ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দিবস-২০১৪’ এর সার্বিক সফলতা এবং এই বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় বিজিবি সদর দফতরে রেজিমেন্টাল পতাকা উত্তোলন করে দিবসটির বিভিন্ন কর্মসূচির সূচনা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।
