দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়: কামাল হোসেন

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৯:৫৩
 
গণফোরাম সভাপতি ও আইনবিদ ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। এই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় যেতে একটি পথ বের করতে হবে। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে আসা উচিত। শনিবার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) দেশের শাসন পরিস্থিতি-২০১৩ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর মহাখালীস্থ ব্র্যাক সেন্টার ইনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ।
বিআইজিডি’র নির্বাহী পরিচালক সুলতান হাফিজ রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিবেদনের উপর আলোচনা করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. বিনায়ক সেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। গণতন্ত্র, দল ও রাজনীতি শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন বিআইজিডির গবেষণা প্রধান মিনহাজ মাহমুদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে মূলত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অনগ্রসরতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাষ্ট্র, জনগণ, গণতন্ত্র, রাজনীতি, দল, ক্ষমতা, সংবিধান, বাক স্বাধীনতা, সহিংসতা, রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন, মনোনয়ন পদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব, প্রভাব, কমিটির কার্যক্রম, রাজনেতিক দলের নিয়ন্ত্রণ, অর্থায়ন, সংসদীয় প্রতিনিধিত্বসহ বেশ কিছু বিষয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এটি বিআইজিডি’র সপ্তম বার্ষিক প্রতিবেদন।
অনুষ্ঠানে ড. কামাল হোসেন বলেন, শুধু নির্বাচন দিয়ে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কার্যকর করতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। তিনি বলেন, বহুদলীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ থাকবে, মত ভিন্নতা থাকবে। তবে সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলিতে ঐক্যমত্য থাকতে হবে। তিনি বলেন, জনগণ ক্ষমতার মালিক। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রয়োগ করতে হবে সংবিধানের অনুযায়ী। বিআইজিডি’র গবেষণার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়েও তারা এ ধরনের গবেষণা করতে পারে।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় আরো একটি ওয়ান-ইলেভেন হতে পারতো। সেই বিভিষীকাময় পরিস্থিতি থেকে দেশকে একটি দায়িত্বশীল সরকার রক্ষা করেছে। সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, এজন্য পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা, সংবিধানের শাসন মেনে সংলাপে আসতে হবে। বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে হবে, যুদ্ধাপরাধীদের ত্যাগ করতে হবে। স্বাধীনতা ও পরাধীনতার মধ্যে সংলাপ হতে পারে না। তেলে আর জলে সংলাপ হয় না। পরিবর্তিত রাজনৈতিক অবস্থা মেনেই বিএনপিকে সংলাপে আসতে হবে। গণতান্ত্রিক উত্কর্ষ সাধনে তারা সংলাপ চাইলে অবশ্যই সরকার আগ্রহ দেখাবে।
দেশে সুশাসনের চেয়ে অপশাসন লাভজনক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের এমন এক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, অপশাসন থাকলে কোনো দেশের উন্নতি হয় না। এ ধরনের কোনো উদাহরণ বিশ্বের কোনো দেশের নেই। সুশাসনের জন্যই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে।
ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাানো হয়েছিলো। আর এখন বলা হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা। নির্বাচনে অংশ নিতে কেউ বিএনপিকে মানা করেনি। তারা বাইরের দেশের পরামর্শে নির্বাচনে না আসলে কি করার থাকতে পারে। সংলাপের বিষয়ে তিনি বলেন, পূর্বশর্ত দিয়ে কোনো সংলাপ হতে পারে না। সদ্বিচ্ছা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বিষয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পারিবারিক প্রভাব রয়েছে। এখানে চাপিয়ে দেয়ার কোনো বিষয় নেই। এটা জনগণের ইচ্ছার বিষয়।
সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের বক্তব্যের জবাবে বলেন, কোনো দল কার সঙ্গে জোট করবে সেটা তাদের সিদ্ধান্তের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত। অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। এটা বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত।
প্রতিবেদন বিষয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নে অনেক কিছু বলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কোন জায়গা থেকে শুরু করবো। দেশে কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে নির্বাচিত সংসদ ও কার্যকর সরকার দরকার। তিনি বলেন, কোনো দল জনগণের ভোটে না জিতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতায় গেলে টিকে থাকতে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস অব্যাহত রাখবে। এতে করে দলীয়করণের মাত্রাও বেড়ে যায়। তাই গণতন্ত্রের জন্য অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। রাজনৈতিক দলের জন্য জায়গা দিতে হবে। নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।