রাজনৈতিক দৌড়ে কোন দলকে যুক্তরাষ্ট্র মদদ দেয় না

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:১২

৩৭ মাস ধরে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে সোমবার বিদায় নিচ্ছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। গতকাল শনিবার সকালে বিদায়ী সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বক্তব্য রাখেন। বিদায় বেলায় আবেগাপ্লুত ড্যান মজীনা বলেন, এই তিন বছরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভিন্ন মাত্রা ও উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের অংশীদারিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। যেকোন সময়ের চেয়ে বা যেকোন মানুষের চেয়ে এই সম্পর্ক অনেক বৃহত্। চারটি কাঠামোতে সম্পর্ক প্রাতিষ্ঠানিকতা পেয়েছে। এটা আমার বড় অর্জন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় ‘বিএনপি’র প্রতি সমর্থনসহ’ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ সম্পর্কে সাংবাদিক সম্মেলনে জানতে চাইলে ব্যর্থহীনভাবে ড্যান মজীনা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক দৌড়ে কোন দল বা শক্তিকে মদদ দেয় না। রাজনৈতিক ইস্যুতে ‘বাংলাদেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে।’
বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবার পরপরই অবসর জীবন শুরু করবেন ড্যান মজীনা। অবসরে থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে কোনভাবে সংযুক্ত থাকতে চাই। আমেরিকায় ফিরে গিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সৃজনশীলতা আর গৌরবের কথা বলে যাব।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাত্ হবে কীনা– এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। বিভিন্ন জনের সঙ্গে আমার বিদায়ী সাক্ষাত্ এখনো চলছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা বেশ বিষণ্নতার সঙ্গে বলেন, জনসমক্ষে সমালোচনামূলক বক্তব্য নিয়ে কথা বলতে চাই না। সেগুলো আপনাদের মধ্যে থাকুক। আমি অংশীদারিত্ব নিয়ে গর্বিত। আজ এই অংশীদারিত্ব গভীর, শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত। আমরা এদেশকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক দেখতে চাই।
বাংলাদেশ একটি এশিয়ান টাইগারে পরিণত হবে– এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, টাইগারের চারটি পাকে স্তম্ভ হিসাবে বিবেচনা করা যায়। তৈরি পোশাক, চামড়া, ওষুধ আর তথ্য প্রযুক্তি– এই চারটি খাতকে চারটি স্তম্ভ বিবেচনা করে বাংলাদেশ এশিয়ান টাইগারে পরিণত হবে। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সহায়তা, আইনের শাসন, দুর্নীতি রোধ, সুশাসন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সংকট– এগুলো বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। নির্বাচনের পর পররাষ্ট্র দপ্তর যা বলেছে এখনো ঠিক তাই রয়েছে। মার্কিন সিনেটে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের বক্তব্যও অনুরূপ।