দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৩০টি নদ-নদী এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পলি পরে ও চর জেগে নাব্য হারিয়েছে অধিকাংশ নদী। এখন সামান্য জোয়ার হলেই নদীর দু-কূল উপচেপড়ে গ্রাম ও চরগুলোতে। সামান্য জোয়ারেই দেখা দেয় প্লাবন। নষ্ট হয় ফসলি জমি।
নদীতে যে সামান্য পানি রয়েছে, তাও একেবারে নোনা। নদীর এ দুরাবস্থায় এ অঞ্চলের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। তিন ফসলি জমি এখন এক ফসলিতে পরিণত হয়েছে। স্রোতা নদ-নদীর মরদেহে আবাদ হচ্ছে ইরি-বোরো। অথচ একসময় এ সব নদ-নদীর উত্তাল তরঙ্গ ভরা যৌবন ছিল। নদীগুলোর বুক চিরে চলাচল করত বড় বড় লঞ্চ, স্টিমার ও জাহাজ। ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমারসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহন হুমকির মুখে পড়েছে। আবার ঘুরেফিরে সে কথাই সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রমত্তা মেঘনার বিভিন্ন স্থানে এখন শুধু চর আর চর। ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের মধ্যবর্তী প্রমত্তা মেঘনার এ-পার থেকে ও-পার আগে দেখা যেত না। এখন মধ্যবর্তী স্থানে একাধিক বিশাল চর জেগে উঠেছে। খোদ বরিশাল নগর সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীতেই জেগে উঠেছে একাধিক চর। নগর ঘেঁষে জেগে ওঠা এ সব চরের নাম রসুলপুর, মোহাম্মদপুর ও পলাশপুর। কীর্তনখোলা নদীর বুকের এ চরগুলোতে এখন আধুনিক শহরের ছোঁয়া লেগেছে। লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় পলি জমাট বেঁধে নাব্য হারিয়েছে কীর্তনখোলা।
পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন সাম্প্র্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টি নদীর পানি প্রবাহের প্রধান উত্স পদ্মা ও মেঘনায় প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ সব শাখা নদীতে এর প্রভাব পড়েছে। এ শাখা নদীগুলো স্রোতহীন হয়ে পড়ায় বর্ষায় নদীবক্ষে জমা হওয়া পলি অপসারিত হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর জেগে ওঠছে অসংখ্য ছোট-বড় নতুন চর। নদীগুলো হারিয়েছে নাব্য।
