শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পখাত বিকাশের লক্ষ্যে একটি শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে। উদ্যোক্তাদের দীর্ঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে বিসিকের মাধ্যমে এ শিল্পপার্ক স্থাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।’ রবিবার রাজধানীর সানাই কমিউনিটি সেন্টারে ‘হালকা প্রকৌশল শিল্প বিকাশে আমদানি বিকল্প যন্ত্রাংশ উত্পাদন’ শীর্ষক সেমিনার ও ম্যাচ-মেকিং প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণে দেশব্যাপী পরিকল্পিত শিল্পায়ন জরুরি। এ লক্ষ্য অর্জনে টেকসই ও প্রযুক্তি নির্ভর হালকা প্রকৌশল শিল্পখাতের বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত এসএমই অর্থায়ন তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
মিকিও হাতায়েদা বলেন, ‘জাপানের ৯৯ শতাংশ শ্রমিক কাজ করে এসএমই খাতে। আর বাংলাদেশে ৪৫ শতাংশ শ্রমিক এ খাতে কাজ করেন। এখানে এসএমই খাতে আরও শ্রমিক সংযুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে হালকা প্রকৌশল খাত বড় অবদান রাখতে পারে। জাপান এ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশের পাশে থাকতে চায়।
সেমিনারে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়নে জাইকা ০.০১ শতাংশ সুদে ৫০০ কোটি টাকা দিলেও আমরা ঋণ পাচ্ছি উচ্চ সুদে। বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ৫ শতাংশ সুদে এ অর্থ নেয়। আর উদ্যোক্তাদেরকে তারা ঋণ দেয় ১৮ শতাংশ সুদে। এতে উদ্যোক্তারা জাইকার অর্থের সুফল পাচ্ছেন না। তাই কিভাবে কম সুদে ঋণ দেয়া যায় তা সরকারকে ভাবতে হবে। এ ছাড়া, প্রশিক্ষণের জন্যও সরকারের সহায়তা চান মো. আব্দুর রাজ্জাক। প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ খাতের অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব। সরকারের খাস জমি থেকে এ শিল্পের জন্য জমি দেয়ার ব্যাপারেও তিনি পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।’
সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার হালকা প্রকৌশল শিল্প রয়েছে। এসব কারখানায় সরাসরি ৬ লাখ এবং পরোক্ষভাবে ৬০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ পর্যন্ত এ শিল্পখাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। দেশে প্রতিবছর এ খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি আমদানি বিকল্প যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ উত্পাদিত হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে হালকা প্রকৌশল শিল্পখাত শতকরা ২ দশমিক ২৯ ভাগ অবদান রাখছে।’
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন কে এম হাবিব উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে জাইকা বাংলাদেশের প্রতিনিধি মিকিও হাতায়েদা, ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. সৈয়দ ইহসানুল করিম, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং জাইকার সিনিয়র ভলান্টিয়ার তেতসুইয়া সাইতো বক্তব্য রাখেন। এ সময় হালকা প্রকৌশল শিল্পের প্রসারে এ খাতের জন্য পুঁজি, প্রশিক্ষণ আর পরিকল্পিত শিল্পপার্ক চান এ খাতের উদ্যোক্তারা।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) ফাউন্ডেশন এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতি যৌথভাবে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে ২৪টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছে।
