মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন অর্থনীতিবিদরা
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-কমিশন প্রায় শতভাগ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে সরকারের বাড়তি ব্যয় হবে ১৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর বর্ধিত বেতন আগামী জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। এ বিশাল ব্যয়ভার মেটানোর অর্থের সমস্যা নেই জানিয়ে চিন্তিত না হতে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এতে মূল্যস্ফীতি হবে না। তবে অর্থনীতিবিদরা অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে পারছেন না। তারা বলছেন, কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আদায় বাড়ানো না গেলে এ ব্যয়ভার মেটানোর জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ বা সামাজিক খাতের বাজেট কাটছাঁট করতে হবে। নতুবা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিতে হবে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির হাত থেকেও রেহাই মিলবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু এক লাফে শতভাগ বৃদ্ধি বড় উল্লম্ফন। রাজস্ব আদায় না বাড়লে বাজেটে চাপ পড়বে। আগামী বছরের পর থেকে এ চাপ আরো তীব্র হতে পারে। এর জেরে উন্নয়ন প্রকল্প ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বয়স্কভাতাসহ সামাজিক খাতের ব্যয় কাটছাঁট করতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে। কেননা বেতন বৃদ্ধির সাথে ‘মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা’ থাকে। দোকানদার, বাড়িওয়ালারা এমন ঘোষণার অপেক্ষায় থাকেন। আর এর শিকার হবে গার্মেন্টস খাতসহ অন্যান্য বেসরকারি খাতের কর্মীরা। বেতন না বাড়া সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতির শিকার হবে তারাও। তবে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে সরকারকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।
তিনি বলেন, এই বেতন বাড়ার সুবিধা নেবে বাংলাদেশ বিমানের মত লোকসানি কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও। এক্ষেত্রে ব্যয়ের লাগাম টানতে প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন। সে জন্য কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মী যাতে কম প্রয়োজন হয় সেদিকেও (ম্যানুয়াল পদ্ধতির পরিবর্তে অটোমেশন) নজর দিতে হবে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, বর্ধিত বেতনের চাপ সামলানোর জন্য বর্ধিত রাজস্ব মূল ভরসা। কিন্তু গত দুই অর্থবছর ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এবারও রাজস্ব আদায়ের গতি মন্থর। বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তো বৈদেশিক সহায়তা আসবে না। ফলে ঋণের পথে হাঁটতে হতে পারে। সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণের লক্ষ্য ইতিমধ্যে অতিক্রম হয়েছে। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
পে-কমিশনের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাসউদ্দিন আহমেদ গত রবিবার অর্থমন্ত্রীর কাছে বেতন কাঠামোর সুপারিশ জমা দেন। এতে সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা মূল বেতনের সুপারিশ করা হয়। এ সুপারিশ বাস্তবায়নে অর্থের সংকুলান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী ওই সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য আমরা বাজেটেই বরাদ্দ রেখেছি। চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সরকারের হাতে অর্থ আছে। মূল্যস্ফীতিও বাড়বে না।
