কর ফাঁকির মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন স্পেনের রাজার বোন রাজকুমারী ক্রিস্টিনা। ক্রিস্টিনার স্বামী ইনাকি উরদানগারিনের বিরুদ্ধে সরাসরি কর ফাঁকির সম্পৃক্ততা পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এর ফলে এবারই প্রথম স্পেনের রাজ পরিবারের কেউ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে যাচ্ছেন। ক্রিস্টিনা রাজা ফিলিপের বোন এবং সাবেক রাজা জুয়ান কার্লোসের কনিষ্ঠ মেয়ে।
ধারণা করা হচ্ছে, আরো ১৬ জন সন্দেহভাজনের সাথে রাজকুমারীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। স্বামী ইনাকি উরদানগারিনের সাথে ‘আইজুন’ নামের একটি কোম্পানির অংশীদারও ক্রিস্টিনা। তবে স্বামী-স্ত্রী দুই জনেই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সেখানে কোন রকম দুর্নীতি করা হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
মেজরকা দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পালমার কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, ইনাকি তার সাবেক এক ব্যবসায়িক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত্ করেছেন। ইনাকি ক্রীড়া সংগঠনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাত্ করেন। দাতব্য ক্রীড়া সংগঠন নুস ইনস্টিটিউটের প্রধানের দায়িত্বে থাকাকালে তিনি প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ পাচার করেন। সন্দেহ করা হয়, এর মধ্যে ২.৬ মিলিয়ন ডলার রাজকুমারী ক্রিস্টিনাও পান।
২০০৭-০৮ সালে এই অর্থ আত্মসাত্ ও অর্থপাচারের বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে। এরপর তদন্তে নামে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। তদন্তে একে একে বের হয়ে আসতে থাকে অনেকেরই নাম। আর এ দুর্নীতিতে স্পেনের রাজপরিবারের কোন সদস্যের নাম আসে ২০১০ সালে। স্পেনের ডানপন্থি ট্রেড ইউনিয়ন ‘মানোস লিমপিয়াস’ ক্রিস্টিনার আট বছরের এবং তার স্বামীর সাড়ে ছাব্বিশ বছরের কারাবাস দাবি করেছে।
১৯৯৭ সালে রাজকীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্পেনের হ্যান্ডবল খেলোয়াড় ইনাকি উরদানগারিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন রাজকুমারী ক্রিস্টিনা।
