রহস্যে ঘেরা কালো টমেটো

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:৫৪

গত বছরের শীতে উদ্ভিদ বীজ বিশেষজ্ঞ রে ব্রাউনের কাছে একটা পার্সেল এল। পার্সেলের ওপর লেখা ‘কালো টমেটো’। রে সাহেব ভাবলেন, কত রকমের পাগল যে আছে পৃথিবীতে! চার মাস আগেই ‘এপ্রিল ফুল’ করে বসে আছে। কালো টমেটো বলে জগতে কিছু আছে বলে তিনি শোনেননি।

ব্রিটেনের ডেভন কাউন্টিতে নিউটন অ্যাবট নামে যে ছোট্ট শহর আছে, সেখানকার ৬৬ বছর বয়স্ক বীজ বিশেষজ্ঞ রে ব্রাউনের ‘প্লান্ট ওয়ার্ল্ড সিড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিষ্ঠানটি দুষ্প্রাপ্য উদ্ভিদ বীজ সংগ্রহের পাশাপাশি বিক্রিও করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানেরই এক ক্রেতা পাঠিয়েছিলেন  পার্সেলটা। যতই অবিশ্বাস হোক রে সাহেব বীজগুলো ভাগাড়ে না ফেলে পুঁতে দিয়েছিলেন তার বাগানে। সেই গাছে যখন ফল ধরল তখন রীতিমত তাজ্জব বনে গেলেন রে সাহেব। কাঁচা টমেটোগুলোর রঙ নীলচে বেগুনি। যা সাধারণ টমেটো থেকে একেবারে আলাদা। কিন্তু বিস্ময় তখনো অপেক্ষা করছিল তার জন্য। টমেটোগুলোতে যখন পাক ধরল, তখন রে সাহেবের চোখ ছানাবড়া। খয়েরি আর কালোতে মিশে যে রঙ হল তার, তাকে কালো ছাড়া আর কিছু বলা চলে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি সত্যিই কালো টমেটো ফলেছে তার ক্ষেতে!
রে ব্রাউন নিজেই বলেন, ‘গত শীতে এক ক্রেতা প্যাকেটটা পাঠিয়েছিলেন। প্যাকেটে ‘কালো টমেটো’ লেখাটা দেখে প্রথমে মনে হয়েছিল আজগুবি। ভেবেছিলাম, এত রকমের আজব মানুষ আছে দুনিয়ায়! হয়তো তেমনি কেউ একজন ‘এপ্রিল ফুলের’ আগাম ধোঁকা দিতে চেয়েছে! কিন্তু যখন সেই বীজের গাছগুলো থেকে  সত্যি সত্যিই কালো কালো টমেটো ধরল, তখন থ’ হয়ে গিয়েছিলাম ।’
মিস্টার ব্রাউনের ক্ষেতে গোটাতিনেক কালো টমেটো গাছে ভালই টমেটো ধরছে। সেগুলো খেয়ে তিনি একেবারে মুগ্ধ। বলেছেন, বাইরের দিকটা কালো, ভেতরটা লাল। সাধারণ টমেটোর চেয়ে এর স্বাদ এবং গন্ধ বেশি তীব্র।

কালো টমেটো দেখতে সুন্দর তো বটেই, উপকারীও বটে। সাধারণ টমেটোর চেয়ে কালো টমেটোর কিছু বাড়তি গুণ রয়েছে। এই টমেটোতে অ্যান্থোসায়ানিন নামে এক ধরনের এন্টিঅক্সিড্যান্ট আছে, যা কিনা ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর বলে প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এছাড়া মেদ কমাতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও যথেষ্ট ভালো ফল দেবে এই টমেটো। যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর এই টমেটো নিয়ে আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে গেছে বিজ্ঞানীদের। প্রশ্ন জাগে এই কালো টমেটোর জাত কি আগে থেকেই ছিল নাকি এটা কৃত্রিম উপায়ে তৈরি। রে সাহেব অবশ্য বলেছেন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বা হাইব্রিডের মত কোন কারিগরি ঘটানো হয়নি এতে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে কালো টমেটো এতদিন কোথায় ছিল? কেন এতদিন এর কথা শোনেনি কেউ! এসব প্রশ্ন এখনো রহস্যে ঘেরাই রয়ে গেছে।