কেন্দ্রীভূত প্রশাসন, গতানুগতিক প্রশাসন পরিচালন ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা এবং হরতালের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচি—এই তিন কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট হচ্ছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদব লেছেন, সেশনজট নিরসনে নানামুখী পদক্ষেপ নেয়া হয়ছে। এখন থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজট হবে না। বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপাচার্য।
উপাচার্য বলেন, ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) কোর্সের শিক্ষার্থীরা যাতে ৪ বছরে অনার্স ও ৩ বছরে ডিগ্রি পাস করতে পারে, সে জন্য প্রতিবছরের পরীক্ষার নির্দিষ্ট সময়সূচি অগ্রিম ঘোষণা করা হয়েছে। এদের এবং এখন থেকে যারা ভর্তি হবে তাদের ক্ষেত্রে কোনো সেশনজট থাকবে না।
এ ছাড়া, যারা বিভিন্ন বর্ষের পুরাতন শিক্ষার্থী তাদের সেশনজট নিরসনে ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে এবং শিগগিরই তা ঘোষণা করা হবে। এর ফলে এরূপ ৪ শিক্ষাবর্ষের সম্মান ও স্নাতক শিক্ষার্থীদের সেশনজট ১ বছর থেকে ৪ মাস পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ প্রোগ্রাম ঘোষণার পূর্বে কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত নেয়া হবে।
যে কোনো পরীক্ষার ফল সর্বোচ্চ ৩ মাসের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্যে এবং দ্বিতীয় পরীক্ষক পদ্ধতি অপ্রয়োজনীয় বিবেচিত হওয়ায় তা বাতিল করে প্রধান পরীক্ষকের তত্ত্বাবধানে একক পরীক্ষা পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টেস্ট কেস হিসেবে ১১ নভেম্বর ২০১৪ সম্পন্ন ২০১২ সালের ৪র্থ বর্ষ (সম্মান) শ্রেণির পরীক্ষা (শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ লক্ষ ৩০ হাজার) ফল ৩ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে আমরা কাজ করছি। আশা করি, এ ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের সুসংবাদ দিতে সক্ষম হবো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পরীক্ষার উত্তরপত্র সারা দেশে পরীক্ষা কেন্দ্রসমূহে প্রেরণ, পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রসমূহ থেকে তা গাজীপুরে প্রেরণ, মূল্যায়নের জন্য উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষকদের নিকট প্রেরণ, আবার সেসব গ্রহণ ইত্যাদি কর্মকাণ্ড গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ডাকযোগে এত দিন চলে আসছিল, যা ছিল এক দীর্ঘসূত্রতার বিষয়। বর্তমান বছর থেকে ডাকযোগাযোগ পরিহার করে সকল উত্তরপত্র ও পরীক্ষা-সামগ্রী আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহের মাধ্যমে বিতরণ ও গ্রহণ করা হচ্ছে। এখন আর এ জন্য গাজীপুর আসতে হচ্ছে না।
অনলাইনে নম্বর গ্রহন, ওএমআর পদ্ধতির অবসান ও বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি, শিক্ষকদের ডাটাবেইজ তৈরি এবং ফল প্রকাশে জোর মনিটরিং করা হয়েছে।
উপাচার্য বলেন, সেশনজট নিরসনসহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এটিকে বিকেন্দ্রীকৃত আধুনিক, গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানো ব্যতীত আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।
উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান, এ পর্যন্ত এর অর্জন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত নানামুখী পদক্ষেপ সম্বন্ধে না জেনে বা কোনোরূপভাবে না জানতে চেয়ে, কারণে-অকারণে কেউ কেউ সুযোগ পেলেই এ প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে বিরূপ মন্তব্য করতে ছাড়ছেন না। আবার কোনো কোনো মহল উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে নেতিবাচক ধারণা ছড়াচ্ছেন। তথ্য-উপাত্তহীন, কেবল অনুমানের ভিত্তিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলছেন। শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, তা কম-বেশি বাংলাদেশের প্রায় সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের দেশে এমন অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, সে সবের চেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বহু কলেজের অবস্থান সার্বিক বিবেচনায় ঊর্ধ্বে।
বিভাগীয় কলেজগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে ভেবে-চিন্তে আমাদের অগ্রসর হতে হবে, যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনার সুযোগ নিয়ে কেউ কোনোরূপ বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে না পারে।
