খালেদা জিয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২০:৫৬
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বুধবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে,পুরান ঢাকার বকশিবাজারে অস্থায়ী আদালতের সামনে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের সভাপতিত্বে হামলা হয়েছে,যার মূল টার্গেট ছিল দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা। যে কারণে বারবার চেষ্টা করা হয়েছে তার গাড়িবহরের সিকিউরিটির গাড়িগুলোকে বহর থেকে বিচ্ছিন্ন করার। ছাত্রলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের এই হামলায় ছয় শ’র বেশী নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আটক হয়েছেন ৫০ জনের বেশি।
এই হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশের জেলা শহর ও ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ফখরুল। তবে সন্ধ্যায় বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার বড়দিন থাকায় শুক্রবার বিক্ষোভের দিন ধার্য করা হয়েছে।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রিয় দফতরে এই সাংবাদিক সম্মেলনে মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়া বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে গতকাল হাজিরা দিতে যান। এ সময় তাকে শুভেচ্ছা জানাতে দলীয় নেতা-কর্মীসহ অনেক সাধারণ মানুষ উপস্থিত হন। খালেদা জিয়া এজলাশে উপস্থিত হওয়ার ৫/৬ মিনিট আগে ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা সেখানে আক্রমণ চালায়। পুলিশ ও র্যাবের ছত্রছায়ায় এ হামলা চালানো হয়। এতে ছয় শতাধিক মানুষ আহত ,যার মধ্যে শতাধিক লোকের অবস্থা মারাত্মক।
 
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া মামলায় হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় প্রতিটি ট্রাফিক সিগন্যালে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এ ছাড়া নিরাপত্তারক্ষীদের তার থেকে বিচ্ছিন্ন করতে বার বার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আদালতে হাজিরার কয়েক মিনিট আগে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এতে স্পষ্ট হয় যে, তাদের উদ্দেশ্য ছিল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করা।ফখরুল বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম বানচাল করতে গত কয়েকদিন ধরেই অবৈধ সরকারে মন্ত্রীরা অশালীন বক্তব্য দিয়ে আসছে।
গাজীপুরের জনসভা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, গাজীপুরে আমরা জনসভা করার অনুমতি পেয়েছি।
ছাত্রলীগ অন্যায়ভাবে মঙ্গলবার রাতে জনসভা স্থলে আক্রমণ চালায়। মঞ্চ তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের মারধর করে। ব্যানার, পোস্টার ছিঁড়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। তিনি অভিযোগ করেন,গত মঙ্গলবার ‘অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী’ কাশিমপুর কারাগারে গিয়েছিলেন। তিনি ফিরে আসার পর ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠে ২৭ ডিসেম্বরের ২০ দলীয় জোটের জনসভার জন্য প্রস্তুত মঞ্চ ভেঙে ফেলেছে। এটা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই হয়েছে বলে প্রশ্ন জাগছে। এক এমপির গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ হামলার দায় সরকার, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নিতে হবে।
গাজীপুরে ২০ দলের সমাবেশ হবেই'
মির্জা ফখরুল বলেন, গাজীপুরের জনসভা হবেই। জনসভা বানচালের জন্য সরকার পেটোয়াবাহিনী লাগিয়ে দিয়েছে। এরপরও সেখানে ২০ দলের জনসভা হবেই। ২০ দল গাজীপুরে সমাবেশ করবেই। এর জন্য কোন সহিংসতা হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে।