রানা প্লাজা ধস: ২ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল ১ ফেব্রুয়ারি

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২০:৪৫
 
 
 
সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও ইমারত নির্মাণ আইনের মামলা দুটিতে অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য ফের দিন ধার্য করা হয়েছে। বুধবার মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কোনো প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শহীদুল ইসলাম আগামী ১ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করেন। 
নথিসূত্রে দেখা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি (মাতিঝিল ইউনিট) পুলিশের সহকারী সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর চলতি বছরের গত ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্তে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৯৫২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রদি আলামত হিসাবে জব্দ করা হয়েছে। সর্বমোট ২২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার মতো সাক্ষ্য প্রমান সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জন সরকারি কর্মচারিকে আসামি হিসেবে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারার প্রেক্ষিতে মঞ্জুরি আদেশ সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সমূহে পত্র পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রনালয় থেকে ছয়জনের বিরুদ্ধে মঞ্জুরি আদেশ পাওয়া গেছে। শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে চারজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মঞ্জুরি পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ২ জন এবং চেয়ারম্যান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকার কার্যালয়ের ১ জন কর্মচারীর জন্য মঞ্জুরি আদেশ প্রাপ্তির আবেদন মুলতবি আছে।
গত বছরের ২৪ এপ্রিল ইতিহাসের ভয়াবহতম এ ভবন ধসের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলা হয় অবহেলায় মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে। পরে প্রথম মামলাটিতে হত্যা চেষ্টা, গুরুতর জখমের অভিযোগ সংযোজন করা হয়।
সাভার থানার এসআই ওয়ালী আশরাফ ১১৩৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভবন মালিক মো. সোহেল রানাসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে একটি অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করেন। একই দিনে ইমারত নির্মাণ আইন না মেনে ভবন নির্মাণ করায় ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২-এর ১২ ধারায় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন ১৩ জনকে আসামি করে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গত বছরের ২৪ এপ্রিল সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা। এ সময় ভবনের নিচে চাপা পড়েন সাড়ে ৫ হাজার পোশাকশ্রমিক। এ ঘটনায় ১১৩৪ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। আহত ও পঙ্গু হন প্রায় দুই হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।