প্রতিদিনই কমছে কৃষি জমি। আর সে জমি ব্যবহার করা হচ্ছে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিল্পকারখানা নির্মানে। দিনে দুই হাজার বিঘা জমি কৃষি থেকে অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। একই ভাবে একদিনে ৯৬ বিঘা করে একদিনে জলাভূমি হারাতে আমাদের দেশ। কৃষি জমিতে তামাক ও চিংড়ী চাষ করার ফলে প্রতিবছর ২৪ হাজার বিঘা জমি কৃষি কাজের অনুপযোগী হয়ে যাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অর্থনীতিবীদ ড. আবুল বারকাতের এক গবেষণায় এ সব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এন্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) আয়োজিত ‘বাণিজ্যিক ব্যবহারে কৃষিজমি হ্রাস এবং ক্ষুদ্র চাষী ও গ্রামীণ দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা’ শীর্ষক সেমিনারে এ গবেষণা প্রবন্ধ তুলে ধরেন ড. আবুল বারকাত। এএলআরডির চেয়ারপার্সন ও নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন সৈয়দ আবুল মকসুদ, পরিবেশবিদ অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও এলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা। আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি ফজলে হোসেন বাদশা সেমিনারে বক্তৃতা করেন।
সেমিনারে ড. আবুল বারকাত বলেন, দেশের কৃষি জমি রক্ষা করতে হলে ও কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ঠেকাতে সরকারের নীতি ঠিক হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকার নিজেই জানেনা প্রতিবছর কতটুকু জমি কৃষি থেকে অকৃষি জমি হয়ে যাচ্ছে। কোন এলাকায় তামাক চাষ বাড়ছে কোন এলাকায় কমছে তার কিছুই জানেনা সরকার। এ সরকার বাণিজ্যিকীকরণের উস্তাদ। বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও উপদেষ্টারা বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ দ্বারা পরিচালিত। ড. আবুল বারকাত বলেন, কৃষি জমি অকৃষি হওয়া ও বাণিজ্যিকীকরণ রোধে তামাকের উত্পাদন কমাতে হবে। এ জন্য সরকারের রাজস্ব নীতি শক্ত করতে হবে। আইন করে বহুজাতিক কোম্পানির তামাক উত্পাদনের বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে। চিংড়ী চাষ বিশেষভাবে বন্ধ, জমির মান বাড়ানো এবং খাদ্য উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কথা বলেন তিনি। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শুধু আইন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবেনা। দেশে অনেক আইন আছে তার বাস্তবায়ন নেই। তাই আইনের বাস্তবায়নের উপর জোর দেন তিনি। আর কৃষি ক্ষেত্রে অর্গানিক ফার্ম করার কথা বলেন এই আইনজীবি। সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কৃষি জমিকে রক্ষা করতে হলে এখনই সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
খুশী কবির বলেন, আমাদের ছোট দেশে ভূমিদস্যুর সংখ্যা অনেক। এদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী অবস্থান নিতে হবে। অন্যদিকে জমি বিক্রির উপর বিধি নিষেধ জারি করা যেতে পারে। যারা ভূমিহীন হচ্ছে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই সবার নৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলেন তিনি।
