ফরেনসিক রিপোর্ট

চিত্রনায়িকা হ্যাপীকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪, ২১:৫০
 
 
 
 
ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ মামলার বাদী চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে পেয়েছে পুলিশ। তাতে জোর করে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বরং পরীক্ষায় হ্যাপীর একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এগুলো অনেক পুরানো। চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় হ্যাপীকে বলা হয়েছে ‘মাল্টিগামী’। কিন্তু এখন পর্যন্ত ঠিক কত জনের সঙ্গে সে মিলিত হয়েছে তা নির্ণয় করা যায়নি। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে এই রিপোর্ট মিরপুর থানা পুলিশের কাছে পৌঁছেছে।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাখাওয়াত বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল  থেকে ফরেনসিক রিপোর্ট পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। আইন অনুযায়ী ফরেনসিক রিপোর্টটি আদালতে উত্থাপন করা হবে। রিপোর্টে যা রয়েছে তা বিশ্লেষণ করে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। ফরেনসিক রিপোর্টে লেখা রয়েছে— ‘নো সাইন অব রিসেন্ট ফোর্সফুল সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্স’ অর্থাত্ জোর করে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক সূত্র জানায়, তারা হ্যাপীর ফরেনসিক পরীক্ষায় ধর্ষণের কোন আলামত পাননি। তবে হ্যাপী যে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে শারিরীরিক সম্পর্কে মিলিত হয়েছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। হয়তো বা তিনি বিভিন্ন সময়ে ‘ইউজড’ হয়েছেন। পরীক্ষায় যেসব উপাদান পাওয়া গেছে এগুলো অনেক পুরানো। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে ধর্ষণের অভিযোগ করেছিলেন সেই বিষয়টি প্রমাণিত হয়নি।
গত ১৩ ডিসেম্বর জাতীয় দলের পেসার রুবেলের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেন চিত্রনায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপী। ওই দিন পুলিশ হ্যাপীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখে। পরদিন মেডিকেল টেস্টের জন্য হ্যাপীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে নেয়া হয়। পরীক্ষা শেষে হ্যাপীকে তার বাবা-মায়ের হেফাজতে পাঠিয়ে দেয় পুলিশ। হ্যাপীর মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। পরীক্ষা শেষে বুধবার তারা পুলিশের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।