আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় সাজা নিশ্চিত জেনেই এর কার্যক্রম বন্ধ ও বাধাগ্রস্ত করতে খালেদা জিয়া তার সশস্ত্র পেটোয়া বাহিনী দিয়ে বুধবার বকশিবাজার ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) এলাকায় হামলা চালিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
হানিফ বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যেই বিএনপি ও ছাত্রদলের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। তারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়কে বাধাগ্রস্ত করে দেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে চায়। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সৃষ্টিই ছিল খালেদা জিয়ার আসল উদ্দেশ্য।
সারা দেশ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার ক্যাডার এনে বিএনপি এ হামলা চালায়-এ অভিযোগ করে হানিফ বলেন, এ ধরনের হামলা অব্যাহত থাকলে জনগণ বিক্ষুব্ধ হয়ে আপনাদের গাড়ির উপরও আক্রমণ করতে পারে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায়ভার বিএনপি নেতাদেরকেই বহন করতে হবে।
আগামী ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস এবং ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি ঠিক করতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাসের ওপর হামলা প্রসঙ্গে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, গণতন্ত্রের সুযোগ নিয়ে তারা (বিএনপি) এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে। এই অবস্থা যদি চলতে থাকে, তাহলে বিএনপি নেতাদের গাড়িতেও দেশের মানুষ হামলা চালাতে পারে। তাই বলি- এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধ করুন। না হলে এর দায়ভার আপনাদের উপর বর্তাবে।
আওয়ামী লীগ কখনোই সন্ত্রাসী কার্যক্রম বরদাস্ত করে না-এ কথা উল্লেখ করে তিনি বুধবারের হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
৫ জানুয়ারি একই স্থানে বিএনপির কর্মসূচি সম্পর্কে হানিফ বলেন, অন্য দল কি কর্মসূচি দিয়েছে তা আমাদের জানার বিষয় না। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সন্ত্রাসী তৎপরতা, জনগণের জান-মাল নষ্ট করার চেষ্টা করা হলে তা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
এর আগে সকাল ১১টার দিকে মাহবুব-উল আলম হানিফের সভাপতিত্বে ধানমন্ডি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে র্যালি ও ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া আগামী ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি সফল করার ব্যাপারেও সভায় আলোচনা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আইন বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
