দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের (২১) পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় খুন হয়েছেন ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন (৪৫)। এরপর গাজীপুরের ন্যাশনাল পার্কের গজারি বনে তার লাশ ফেলে আসে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেফতারকৃত মৌসুমী ও তার মামা মাসুম (২৫)।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান মৌসুমীর বরাত দিয়ে জানান, পরকীয়া প্রেম সন্দেহে পারিবারিক কলহ ও দুই স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিবাদ ছিল। এজন্য মৌসুমী তার স্বামী আলতাফ হোসেনকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনায় তার ছোট ভাই ইমন, পরকীয়া প্রেমিক ইমন ও মামা মাসুম ভূঁইয়া ছিলেন।
উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন যাত্রাবাড়ী থানাধীন কোনাপাড়া এলাকার খান ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তারসহ বসবাস করতেন। গত ২০ ডিসেম্বর সকালে সাড়ে ১০টার দিকে আলতাফ হোসেন যাত্রাবাড়ীর কোনাবাড়ি এলাকার খান ভবনে মৌসুমীর বাসায় যায়। সেখানে আগে থেইে ইমনসহ আরো কয়েকজন অবস্থান করছিল। আলতাফ প্রবেশ করা মাত্র মারপিট শুরু করেন তারা। এক পর্যায়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এরপর একদিন ঐ বাসায় লাশ রেখে দেয় তারা। গত ২১ ডিসেম্বর সকাল সোয়া ১১ টার দিকে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে লাশ গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ন্যাশনাল পার্কের গজারি বনের মধ্যে ফেলে দেয়। ঐ দিন আলতাফের ছোট ভাই জালাল হোসেন তার মোবাইলে কল করলে ফোন বন্ধ পায়। তখন দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে ফোন করলে সে কিছু জানে না বলে জানায়। এরপর থেকে জালাল হোসেন বিভিন্ন এলাকায় তার ভাইকে খোঁজ করতে থাকেন। তাকে না পেয়ে ঐ দিন রাতে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরীর প্রেক্ষিতে ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহমুদ নাসের জনি’র নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। এক পর্যায়ে ডিবি’র দলটি নিশ্চিত হয় যে, ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের নিখোঁজ হবার ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ডিবি মৌসুমী আক্তার ও তার মামা মাসুমকে কোনাপাড়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক গত বুধবার দুপুরে ডিবি ন্যাশনাল পার্কের গজারি বনের ভিতর থেকে আলতাফ হোসেনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়না তদন্তের জন্য লাশ গাজীপুর সদর হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত আলতাফ হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার শখেরগাঁও গ্রামের হাজী বিল্লাল হোসেনের ছেলে।
