আগামীকাল শনিবার গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভাকে কেন্দ্র করে ক্রমশঃ উত্তেজনা বাড়ছে। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। একই স্থানে বিএনপির জনসভা ও ছাত্রলীগের বিক্ষোভ সমাবেশ করার সিদ্ধান্তে উভয় পক্ষই অনড় অবস্থানে রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ সভাস্থলটি কার্যত ছাত্রলীগের দখলে ছিল। দিনভর ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় মিছিল সহকারে কলেজ মাঠে আসেন। তাদের অবস্থানের কারণে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতাকর্মী মাঠের আশপাশে ঘেঁষতে পারেনি। দু’দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের অভ্যন্তরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মাঠের পূর্ব পাশে ছাত্রলীগের টাঙানো সামিয়ানা ও ব্যানারটির কাছে পুলিশ অবস্থান করছে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হীরা সরকার, ভাওয়াল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের আহবায়ক ইদ্রিস আলী ও যুগ্ম আহবায়ক ফাইজুর রহমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একটি বিশাল মিছিল বের হয়। তারা পুলিশের সামনেই লাঠিসোঁটা নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে কয়েক দফা মহড়া দেয়। পরে কলেজের প্রধান ফটকের কাছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এদিকে মাঠের অদূরে চান্দনা চৌরাস্তার আশপাশে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্দেশনা না থাকায় তারা কলেজ মাঠের দিকে অগ্রসর হননি। বিকালে বিএনপির নেতাকর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তার কাছে ঢাকা-গাজীপুর সড়কে মিছিল করে। মিছিলে সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুরুজ আহমেদ, যুবদল নেতা বশির আহমেদ বাচ্চু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সরাফত হোসেন, সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনির, আতাউর রহমান, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিকালে গাজীপুর সিটি মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ মান্নানের নেতৃত্বে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। নেতৃবৃন্দ জনসভাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সহযোগিতা চান। এ সময় জেলা প্রশাসক মোঃ নূরুল ইসলাম বিএনপি নেতৃবৃন্দকে জানান, জনসভার জন্য এখনো পর্যন্ত কোন পুলিশী ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়নি। জবাবে বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, জনসভার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ বিএনপিকে লিখিত অনুমোদন প্রদান করেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পৌর মেয়র মজিবুর রহমান, হুমায়ূন কবীর খান, পীরজাদা মাওলানা এসএম রুহুল আমিন, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সালাহ উদ্দিন সরকার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাদুর রহমান মিলন প্রমুখ।
বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, বিএনপির পক্ষে মাঠ ব্যবহারের অনুমোদন থাকলেও পুলিশ জনসভার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে মাঠে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন বলেন, জনসভার জন্য বিএনপিকে ভাওয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু এর পরে আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠন একই স্থানে একই সময়ে একটি সমাবেশ ডাকে। এটা সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক। ওই দিন যে কোন মূল্যে ওই মাঠে খালেদা জিয়ার জনসভা অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী ছাইয়েদুল আলম বাবুল বলেন, যে কোন মূল্যে ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিএনপির জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। জনসভাকে সফল করতে বিএনপির সবরকম প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে ভাওয়াল কলেজ মাঠে যে কোন মূল্যে শনিবার বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ঘোষণা দিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দ্বীপ জানান, ছাত্রলীগ যে কোন মূল্যে খালেদা জিয়ার গাজীপুরে আগমনকে প্রতিহত করবে। জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তারেক রহমানের করা কটূক্তি প্রত্যাহার অথবা তাকে দল থেকে বহিষ্কার না করা পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে গাজীপুরের মাটিতে কোনভাবেই আসতে দেয়া হবে না।
এ ব্যাপারে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম (বার) জানান, আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা দু’পক্ষেরই আবেদন পেয়েছি। কাউকেই আমরা অনুমতি দেইনি। তবে পুলিশের অনুমতি ছাড়া যদি কেউ কোন ধরনের সভা করার চেষ্টা করে তবে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।