চলতি বছরে বিশ্বের প্রভাবশালী চিন্তাবিদদের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও সামাজিক ব্যবসা ধারণার পথ প্রদর্শক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন পোপ ফ্রান্সিস। এর পরে রয়েছেন যথাক্রমে ‘ইন্টারনেট পোপ’ খ্যাত টিম বার্নার্স-লি, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন ও চেক প্রজাতন্ত্রের লেখক মিলন কুন্ডেরা। ইংরেজি ভাষার সংবাদ মাধ্যম ও তথ্যদাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়ে সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক গোিলব দ্যুেভলার ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল স্টাডিজ (জিডিআই) এবং এমআইটি স্লোয়ান স্কুলের গবেষক পিটার গ্লুর ‘গ্লোবাল থট লিডার-২০১৪’ তালিকা করেছেন।
সারা বিশ্বের ২৩৬ ব্যক্তিত্বের মধ্যে ১০০ জন প্রভাবশালী চিন্তাবিদের এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের চিন্তা ও বিশ্লেষণকে বর্তমান সময়ে প্রভাবশালী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সফটওয়্যারভিত্তিক হিসাব নিকাশের সহায়তা নিয়ে গ্লুর ২০১৪ সালের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছেন। যা সৃজনশীল মননের বৈশ্বিক গুরুত্ব নির্ণয় করে।
ড. ইউনূসের পরে তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্যরা হলেন, নোবেল বিজয়ী সাহিত্যিক মারিয়ো ভার্গাস য়োসা, পদার্থবিদ মুরে গেলমান, উপন্যাসিক পাউলো কোয়েলহো, নৃতত্ত্ববিদ জেন গোদাল ও লেখক নাওমি ক্লেইন। জুরিখভিত্তিক তাগেসেনজেইগার সংবাদপত্রের ওয়েবসাইটে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে ইউনূস সেন্টারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সামাজিক ব্যবসা দান খয়রাতের বিষয় নয়
চট্টগ্রাম অফিস জানায়, নোবেল জয়ী ড. ইউনূস বলেছেন, প্রচলিত ব্যবসা ব্যক্তির জন্য লাভজনক হলেও সামাজিক ব্যবসায় এ সুযোগ নেই। সামাজিক ব্যবসায় সমাজের লাভ হয়। প্রচলিত ব্যবসা ব্যক্তি হিতকর। কিন্তু সামাজিক ব্যবসা সমাজ হিতকর। সামাজিক ব্যবসায় কোনো স্থানীয় বিষয় নয়। এটি বিশ্বমাপের জিনিস। এটি দান খয়রাতেরও কোনো বিষয় নয়। আপনি শুধু একবছর বিনিয়োগ করবেন। পরে আপনার টাকা ফেরত পাবেন। এরপর থেকে ওই ব্যবসায় যে মুনাফা হবে তা দিয়ে ব্যবসাটি সম্প্র্রসারণ হবে। সামাজিক ব্যবসা হলো কৈ এর তেলে কৈ ভাজার মত একটি ব্যাপার। ড. ইউনূস আরো বলেন, সামাজিক ব্যবসা যে আমিই প্রথম আবিষ্কার করেছি তা নয়, এটা অনেক আগে থেকেই ছিল। আমি এটাকে ব্র্যান্ডিং করছি যেনো কিছু নিয়ম কানুনের মধ্যে এটি পরিচালিত হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে সামাজিক ব্যবসা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় ড. ইউনূস এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্র লিমিটেড (সিএসবিসিএল) নগরীর চিটাগং ক্লাবে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. সিকান্দর খানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মা ও শিশু হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ডা. ফজলুল হক, চট্টগ্রাম সামাজিক ব্যবসা কেন্দ্রের পরিচালক আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী ও ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, চিটাগং ক্লাবের প্রেসিডেন্ট এমএ সালাম।