সরকারি-বেসরকারি মেরিন একাডেমির সমন্বয়হীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করতে না পারায় বেকার হচ্ছেন প্রায় ৬০০ মেরিন ক্যাডেট। অন্য দিকে, দিন যত যাচ্ছে ‘পাস-আউট’ মেরিন ক্যাডেটদের সংখ্যাও বাড়ছে।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক্স-ক্যাডেটস অব বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। একাডেমির এক্স-ক্যাডেট ইমরান ওয়াহিদ ইমনের সঞ্চালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫ম ব্যাচের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ ইবনে নূর, ষষ্ঠ ব্যাচের ক্যাপ্টেন মো. কামরুল হোসেন প্রমুখ।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশি মেরিন ক্যাডেটদের সুনাম রয়েছে। সম্ভাবনাময় এ সব খাতকে টিকিয়ে রাখতে দেশে-বিদেশে তাদের কর্মসংস্থান বাড়ানোর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভ্যন্তরীণ বাজার তৈরিতে সরকার অনুমোদিত এজেন্সি থাকলেও বাংলাদেশি মেরিনারদের জন্য তা নেই। এ ছাড়া, আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টিতে বিভিন্ন দেশ সরকারি উদ্যোগে নিলেও বাংলাদেশ কোনো উদ্যোগ নেয় না।
অভিযোগ করা হয়, টাকার বিনিময়ে জাল সিওসি (কনটিনিউয়াস ডিসচার্জ সার্টিফিকেট) নিয়ে নন ক্যাডেটরা বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানিতে যোগ দেন। পরে প্রমাণিত হওয়ায় বেশ কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি মেরিনদের নেয়া বন্ধ রেখেছে।
ভিসা জটিলতা দূর, চাহিদা অনুযায়ী ক্যাডেট তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রতিশ্রুতি অনুসারে চাকরি দিতে না পারলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লাইন্সেস কয়েক বছর বন্ধ রাখা, জাল সিডিসি ও সিওসি দেয়া প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বাতিল, সিডিসি ও সিওসি সনদ যাচাই, বিভিন্ন দেশের বড় বড় শিপিং কোম্পানিকে এ দেশে অফিস স্থাপন ও মেরিনার নিয়োগে আহ্বান জানানোর কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।
দেশের অর্জিত রেমিটেন্সে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে মেরিনারদের মাধ্যমে। গত কয়েকটি শিক্ষাবর্ষে মেরিন একাডেমিসহ অন্যান্য ১৭টি প্রাইভেট একাডেমিতে যে সংখ্যক ক্যাডেট ভর্তি করানো হচ্ছে, সে তুলনায় দেশি-বিদেশি জাহাজে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।
দেশি জাহাজের সংখ্যা বিগত ২ বছরে ৭০টি থেকে বর্তমানে ৩৮টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া, কিছু অসাধু এজেন্সি সনদ জালিয়াতির মাধ্যমে অদক্ষ নাবিক নিয়োগ দিচ্ছে। পরে যখন এসকল সনদ যখন জাল হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে তখন বিদেশি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশি নাবিক নিয়োগ দেয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।
