ইউক্রেনে বন্দিবিনিময় শুরু: ১৪৬ সেনা ও ২২২ বিদ্রোহী মুক্ত

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭:৪৮
 
 
 
ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সঙ্গে বন্দি বিনিময় শুরু করেছে কিয়েভ। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক শ বন্দি বিনিময়ের পর তা অব্যাহত থাকবে বলেও উভয় পক্ষই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেনকোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় দুই পক্ষের মধ্যে এই বন্দি বিনিময় শুরু হয়েছে। খবর বিবিসির।
রুশপন্থীদের হাতে আটক দেড় শ সেনাসদস্যকে শুক্রবার মুক্তি দেয় বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে, ইউক্রেন সরকার মুক্তি দিয়েছে ২২২ জন বিদ্রোহীকে। সরকারের একজন মুখপাত্র সেভইয়াতোসলাভ তেগোলকো ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ইউক্রেনের নিরাপত্তা বাহিনী ১৪৬ জন সেনার মুক্তি পাওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে।  শনিবার বাকি চার বন্দিকে মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্তরা তাদের পরিবারের সঙ্গে নতুন বছর উদ্যাপন করবেন। তবে দুই পক্ষের হাতে মোট কতজন বন্দি রয়েছে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি। ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিদ্রোহীদের হাতে প্রায় ছয় শ ইউক্রেনীয় সেনা আটক রয়েছে।
ইউক্রেন সরকার এবং পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহীদের মধ্যে গত এপ্রিলে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে এই বন্দি বিনিময়কে একটি তাত্পর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। বন্দি বিনিময়ের খবরটি ইউক্রেন এবং রাশিয়ার টেলিভিশনে গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হয়েছে। রাশিয়ার সরকারি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত খবরে দেখা গেছে, ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিরা বিদ্রোহীদের মূল ঘাঁটি দোনেতস্ক থেকে বাসে করে রয়ানা দিচ্ছেন এবং সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাদের তদারক করছেন।মুক্তিপ্রাপ্ত ইউক্রেনের সেনা আর্তেম সিউরিক সংবাদ সংস্থা এপিকে বলেন, ‘আমি আমার বাবা, মা ও স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য উদগ্রীব। আমার মুক্তি পাওয়ার খবর তারা জানেন না।’ অপর দিকে, মুক্তি পাওয়ার পর ডেনিস বালবুকভ নামের এক বিদ্রোহী নেতা বলেছেন,‘আমি ভাজা আলু খেতে চাই এবং আমার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’  তবে তিনি পুনরায় লড়াইয়ে ফিরে যাওয়ারও আগ্রহ ব্যক্ত করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে এক শান্তিচুক্তির আওতায় দুই পক্ষের মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী লড়াই বন্ধ হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং রুশপন্থী বিদ্রোহীদের এই সংঘর্ষে কমপক্ষে চার হাজার ৭ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।