যাদুর কুকুর

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৪, ০০:১৬

বাঁচার কোন আশাই ছিল না ভদ্রলোকের। গত মে মাসে তার পিত্তথলি, অন্ত্র এবং লিভারে ক্যান্সার ধরা পড়ে। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার ছড়িয়েও পড়েছিল তার পেটের আরো কিছু স্থানে। হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন ডাক্তাররাও। কারণ অ্যালাবামার বাসিন্দা বিল হজেনক্যাম্পের বয়স এখন ৮৪ পেরিয়ে। এই বয়সে কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়া ক্যান্সার সারিয়ে তোলা তাদের ডাক্তারি বিদ্যার বাইরে। তবু কয়েক দফা কেমোথেরাপি দেয়া হয় তাকে। ডাক্তাররা বলেই দিয়েছিলেন, এবছর বড়দিন দেখার সুযোগ হবে না তার।

এবিসি নিউজকে বিল হজেনক্যাম্প বলেন, ‘না, এটা শুনে খুব যে একটা ভেঙে পড়েছিলাম, তা নয়। বয়সটা তো কম হল না! ৮৪ বছর। সাতটি ছেলে-মেয়ে। তাদের বড় করেছি। ঘুরেছি প্রায় গোটা পৃথিবী। এখন বিদায় নিতে আর অসুবিধা কোথায়! গত অক্টোবরে অপারেশন হল একটা। পেট থেকে বড় বড় গোটা তিনেক টিউমার কেটে ফেলে দিলেন ডাক্তাররা। হাসপাতালেই ছিলাম। যেদিন রিলিজ করল, আমার স্ত্রী ক্যাথি আসছিল আমাকে নিতে। আসার পথে একটা সিগনালে তার গাড়ি যখন দাঁড়িয়ে তখন একটা বেওয়ারিশ কুকুর ছানা আর সব গাড়ির ফাঁকফোকর দিয়ে হেঁটে চলে এল ক্যাথির গাড়ির কাছে। সামনের দু’পা ক্যাথির গাড়ির দরজায় ঠেকিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে পড়ল। ক্যাথি দরজাটা খুলে দিতেই কুকুর ছানাটা ঢুকে পড়ল গাড়িতে।’ বিল হজেনক্যাম্প বলেন, ‘অন্তত বিশ বছর আমি কোন কুকুর পুষিনি। পোষারও ইচ্ছে ছিল না।

আমার স্ত্রী যখন কুকুর ছানাটাকে নিয়ে এল, ভাবলাম এর মালিকের খোঁজ করা দরকার। অনেক খোঁজাখুঁজি করলাম। কিন্তু কেউই সাড়া দিল না। যাই হোক, কুকুরটাকে কাছে রেখে দিলাম। ক্যাথি ওর নাম দিল মাহজং। তো, মাহজংয়ের সঙ্গে চমত্কার ভাব হয়ে গেল আমার। বলা যায়, সারাক্ষণই সে আমার সঙ্গে থাকে। এর ভেতর কেমোথেরাপি দেয়ার তারিখ পড়ল একটা। গেলাম হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে পরীক্ষার পর ডাক্তাররা তো অবাক! শরীরে ক্যান্সারই নেই আমার!’ বিল হজেনক্যাম্প আর তার স্ত্রী ক্যাথির বিশ্বাস, ছোট্ট ওই কুকুরটাই সারিয়ে তুলেছে ক্যান্সার। ওদের দরকার ছিল বলেই কুকুরটা ঠিক ঠিক ক্যাথির গাড়িতেই হাজির হয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছিলেন, এবছরের বড়দিনটা তার জীবনে আসবে না। কিন্তু মাহজংকে সাথে নিয়ে এবার সাড়ম্বরে বড়দিন পালন করেছেন বিল আর ক্যাথি। ক্যান্সারটা সেরে গেছে, অন্য তেমন কোন সমস্যাও নেই, ভালো আছেন বিল।