দূরবর্তী ছায়াপথ এবং কৃষ্ণগহ্বর’র গবেষণা কাজের জন্য নির্মিত একটি ‘এক্স-রে আই’ আমাদের নিজস্ব তারার দিকে মনোযোগী হয়ে একটি বিখ্যাত পোর্টেইট ছবি তুলেছে। খবর বিবিসি’র।
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে দৃষ্টিপাত করার জন্য ২০১২ সালে নাসা’র খুবই উচ্চ-শক্তি সম্পন্ন এক্স-রে ডিভাইস ‘পারমাণবিক বর্ণালিবীক্ষণ টেলিস্কোপ এ্যারে’ (নুস্টার) কক্ষপথে লঞ্চ করা হয়।
নুস্টার আসল দুই বছরের অভিযানের সীমা পেরিয়ে এখন বর্ধিত সময় অবস্থান করছে। ইতিমধ্যে নুস্টার পরিমাপ করেছে কত দ্রুত কৃষ্ণগহ্বর পাক দেয়।
এই ছবি প্রমাণ করে ‘এক্স-রে আই’ সূর্যের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।
‘এক্স-রে আই’র উচ্চ মাত্রার সংবেদনশীলতার কারণে নুস্টার কিছু দীর্ঘদিনের ধাঁধার সমাধান করতে পারবে। যেমন সূর্যের লেলিহান শিখা ‘nanoflares’ বর্তমান কীনা।
বিবেচনার জন্য দেয়া সূর্যের লেলিহান শিখার ছোট প্রস্তাবগুলো এক দশক-পুরানে প্রশ্ন’র ব্যাখ্যায় ‘কেন সূর্যের পৃষ্ঠ অপেক্ষা বাহ্যিক বায়ুমণ্ডল বেশি উষ্ণ’ সহায়তা করতে পারে।
‘এক্স-রে আই’র নির্মাণাধীন পর্যায়েই পদার্থবিদদের প্রথম ভাবনা ছিল এটিকে সূর্য গবেষণা কাজে ব্যবহার করা।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি’র অধ্যক্ষ অভিযানের প্রধান তদন্তকারক অধ্যাপক ফাইওনা হ্যারিসন (স্ত্রী) বলেন, ‘প্রথমে আমি ভেবেছিলাম পুরো ধারণাটাই পাগলামি ছিল।’
ব্রহ্মাণ্ডে আমাদের নিজস্ব সৌর জগতের ভিতরের গভীরে অর্ধনিমীলিত চোখে তাকানোর জন্য নির্মিত সংবেদশীল এক্স-রে টেলিস্কোপ কেন থাকবে?
কিন্তু দিনের শেষে ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি’র সান্তা ক্রুস ক্যাম্পাসের সৌর পদার্থবিদ অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ এ ব্যাপারে ফাইওনা হ্যারিসনকে উপলব্ধি করিয়েছেন।
প্রফেসর স্মিথ বলেন, নুস্টার সূর্যকে এর অভিব্যক্তির গভীরতম থেকে উচ্চতম অংশে একীভূত দৃশ্যে দেখাবে।
উচ্চ-শক্তির এক্স-রেতে নুস্টারের ‘দেখার’ ভিত্তিতেই শুধু এটা সম্ভব। আমাদের সূর্য অন্য তরঙ্গদৈর্ঘ্যে যতটা আলোকময় হয় পৃথিবীতে ততটা দীপ্তিময় করে না। এ উজ্জ্বলতা নাসার ‘চন্দ্র এক্স-রে’ গবেষণাগার মত অন্য টেলিস্কোপের সনাক্তকরণ যন্ত্রগুলোর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূর্যকে আরো খতিয়ে দেখতে নুস্টার দল অভিযান সম্প্রসারণও করবে। কৃষ্ণগহ্বর এবং বিশাল কোন তারকা যা হঠাৎ প্রচণ্ড শক্তি ও তীব্র আলো বিকিরণ করে নিষ্প্রভ হয়ে যায় এমন দূরবর্তী কোন বিষয়ের উপর আরো গবেষণায় অভিযানটি ২০১৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। IMG0
