প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের সকল নাগরিকের জন্য মানসম্মত আবাসন এবং আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য নগর ও গ্রাম গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। দেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রতিটি গ্রামে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। সবশ্রেণীর মানুষের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ভূমির সুষ্ঠু ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে সুপরিকল্পিত গৃহায়ন এবং নগরায়নের কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।
রবিবার সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলে ব্রিটিশদের সব লাল-দালান রক্ষার প্রয়োজন নেই। অপ্রয়োজনীয় ভাঙা দালান টিকিয়ে রাখার কোনো অর্থ হয় না। স্বাধীন দেশে ব্রিটিশদের হেরিটেজ রক্ষার কোনোও প্রয়োজন দেখি না। দৃষ্টিনন্দন হলে এবং স্থাপত্য শিল্পের গুরুত্ব থাকলে এমন কিছু স্থাপনা রাখা যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশরা আমাদের গোলামি করিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের লড়াই করতে হয়েছে, সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে। এটাও মনে রাখতে হবে। এখন স্বাধীন দেশে তাদের হেরিটেজ রক্ষা করার কোনো প্রয়োজন নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে পূর্ত মন্ত্রণালয় সারাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সাইক্লোন শেল্টার, দেশে খাদ্য গুদাম নির্মাণ ও সংসদ ভবনের বন্ধ কাজ পুনরায় চালু করাসহ ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি নির্মমভাবে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করলে থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়নের চাকা। দেশে নেমে আসে গণতন্ত্রহীন এক কালো অধ্যায়। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করা হয়।
তিনি বলেন, আইন লংঘন করে ঢাকার অনেক আবাসিক এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। যা স্থানীয় জনগণের জন্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালের আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। আবাসিক এলাকায় কোনো হাসপাতাল ও স্কুল নির্মাণের অনুমতি দেয়া হবে না। আবাসিক এলাকাগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আগের সরকার বনানীর ন্যাম ফ্লাটগুলো নির্মান করি। বিএনপির সময় এগুলো দলীয় লোকদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। বনানীর ন্যাম ভবনের পাশে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জায়গায় প্লট বানিয়ে বিএনপি পল্লী গড়ে তোলা হয়। তেজগাঁওয়ে পিডিব্লিউডি’র জায়গা দখল করে দলীয় লোকদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। গণপূর্ত অধিদপ্তর, গৃহায়ন অধিদপ্তর, রাজউকসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি, বাড়ি, ভবন দখল করে তারা নৈরাজ্য আর লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে।
তিনি বলেন, জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ২০০৯ সালে আমরা সরকার গঠন করার পর অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলে অন্যান্য খাতের ন্যায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত খাতের উন্নয়নেও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আওয়ামী লীগের আগের সরকারের অসমাপ্ত ও বন্ধ কাজগুলো আবার চালু করি। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ, খুলনার শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ-২, সরকারি কর্মচারী হাসপাতালসহ বিএনপি-জামাত জোট আমলে বন্ধ থাকা অসংখ্য স্থাপনের অসমাপ্ত নির্মাণ কাজ শেষ করে তা জনগণের কল্যাণে উন্মুক্ত কওে দেয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর ও বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে এ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থার আওতায় ৩৫টি প্লট উন্নয়ন প্রকল্প এবং ২৯টি ফ্লাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এর অধীনে ৪২ হাজার ৯৭১টি প্লট উন্নয়ন এবং ৩২ হাজার ৮১৬টি ফ্লাট নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ৩৭ হাজার ৯৫৯ প্লট উন্নয়নের জন্য এ মন্ত্রণালয়ের ২৬টি প্রকল্প এবং ৭২ হাজার ১৯৭টি ফ্লাট নির্মাণের জন্য ১৭টি প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নগর উন্নয়নের প্রতিটি কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করতে হবে। ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডসহ প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরসমূহের সার্বিক কর্মকান্ড উপস্থাপন করে বক্তব্য রাখেন। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈনুদ্দিন আবদুল্লাহসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
