জাতিসংঘে নিযুক্ত আরব প্রতিনিধিরা জাতিসংঘে দেয়া ফিলিস্তিনের চূড়ান্ত প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। যাতে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এ দিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের এই প্রস্তাব প্রত্যাখানের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের মঙ্গলবার এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের কথা। পরিবর্তিত ও চূড়ান্ত প্রস্তাবনাটি নিয়ে সোমবার নিউইয়র্কে বৈঠকে বসেন জাতিসংঘে নিযুক্ত আরব প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা প্রস্তাবনাটির অনুমোদন দেন। খবর আল-জাজিরার।
এ প্রসঙ্গে জাতিসংঘের আরব প্রতিনিধি ও জর্ড়ানের রাষ্ট্রদূত দিনা কাওয়ার বলেন, পরিবর্তিত প্রস্তাবনাটি মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদে পেশ করার কথা। এরপর ভালো সময় ও সুযোগ বুঝে আমরা ভোটাভুটির আয়োজন করব।
ফিলিস্তিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবে বলা হয়েছে— ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলের পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা উপত্যকা দখলের আগে যে ভৌগোলিক সীমারেখা ছিল তার ভিত্তিতেই সমঝোতা হতে হবে। এ ছাড়া, এক বছরের মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসার বিষয়টিও ওই প্রস্তাবনায় রেখেছে ফিলিস্তিন। পাশাপাশি প্রস্তাবনায় ফিলিস্তিন জানিয়েছে— ২০১৭ সালের মধ্যে ভূখণ্ড অধিগ্রহণের অবসান দেখতে চায় তারা।
এ দিকে, ইসরায়েল ও তার মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র না চাইলেও এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিয়মিত চাপ দিতে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। এমনকি আব্বাস তার অবস্থান জানাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিকেও ফোন করেন বলে জানা গেছে।
এর আগে ইউরোপের কয়েকটি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপারে নিজেদের ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করে। ১৩ অক্টোবর ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা। ৩০ অক্টোবর ইসরায়েলি বর্বরতা থেকে স্বাধীনতা পেতে দীর্ঘদিন ধরে যে সংগ্রাম করে আসছে ফিলিস্তিনিরা সেই সংগ্রামকে স্বীকৃতি জানায় সুইডেন। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ফ্রান্স।
