রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল থেকে সোমবার দুপুরে চুরি হওয়া নবজাতক গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। তবে চুরির ঘটনায় নবজাতকের পিতা তরিকুল ইসলাম সোমবার রাতেই নগরীর রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন জানান, নবজাতক চুরির ঘটনা তদন্তের জন্য মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান করা হয়েছে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান আবদুল মোমেনকে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, গাইনি বিভাগের আবাসিক সার্জন নূরে আতিয়া লাভলী ও সহকারী অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত ঘোষ ও রেডিওথেরাপি বিভাগের আবাসিক সার্জন আশীষ কুমার। কমিটিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, চুরি হওয়া নবজাতকের পিতার এজাহারটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনিসুর রহমান। ওসি আরো জানান, চুরির পর থেকেই পুলিশ ওই নবজাতককে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নবজাতক ও চোরের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় রামেক হাসপাতালের ২২ নং ওয়ার্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা কর্মী এবং নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান ওসি।
উল্লেখ্য, জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌরসভার সুরসুনি পাড়ার তরিকুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা বেগম সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সোমবার দুপুরে রামেক হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। বেলা পৌনে তিনটার দিকে দায়িত্বরত সেবিকা, প্রসূতিকে পোষ্ট অপারেটিভ কেয়ারে রেখে নবজাতকে ২২ নম্বর ওয়ার্ডে পৌঁছে দেন। ওই সময় প্রসূতি রুবিনার নানা মোজাফ্ফর ও নানি রহিমা বেগম নবজাতককে বুঝে নেন। তখন শিশুটির পিতা তরিকুল ইসলাম স্ত্রী রুবিনার সঙ্গে পোষ্ট অপারেটিভ কেয়ারে ছিলেন। জানা যায়, হস্তান্তরের কিছুক্ষণের মধ্যে অপরিচিত চল্লিশোর্ধ এক নারী ওই নবজাতককে ওয়ার্ড থেকে কৌশলে চুরি করে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল জুড়ে তল্লাশি চালিয়েও ওই নবজাতককে উদ্ধার করতে পারেনি।
