হরতালের নামে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও সহিংসতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড কঠোরহারে দমনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করবে বলে আবারো স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দেয়া রায়ের প্রতিবাদে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দলটি হরতাল ডেকেছে। ওই হরতাল প্রত্যাহারে বরাবরের মতো মঙ্গলবারও আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ সংগঠন। এ ছাড়া হরতালে উদ্বেগ জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) ও বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমি (বিআইএ)।
দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বর্তমানে স্থিতিশীল উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, হরতালে সাধারণ নাগরিক জীবনের পাশাপাশি উত্পাদন ব্যবস্থা, পণ্য সরবরাহসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম ভীষণভাবে বিঘ্নিত হবে এবং তা সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইতিমধ্যে গত সোমবারের হরতালের ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে হরতাল সমর্থকদের ছোড়া ইটের আঘাতে একজন স্কুল শিক্ষিকার মর্মান্তিক মৃত্যুর বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেয় এফবিসিসিআই। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিচারিক রায়কে কেন্দ্র করে হরতাল আহ্বান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তির উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
‘রাজনৈতিক সমস্যা হরতালে সমাধান সম্ভব নয়’:
পৃথক বিবৃতিতে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিক সমস্যা হরতালের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। হরতালের ন্যায় এ ধ্বংসাত্বক কর্মসূচি অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। সাম্প্র্রতিক বিভিন্ন কর্মসূচি ও পরস্পরের প্রতি নানা ধরনের মন্তব্য উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে তা অতীতের ন্যায় ব্যবসা-বাণিজ্যকে ধ্বংসের মুখে ফেলবে বলেও আশংকা প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্বেগ:
বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) সভাপতি শেখ কবির হোসেন হরতালে উদ্বেগ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১৪ সালে বিমা শিল্পসহ দেশের অর্থনীতির সাথে সম্পর্কিত অধিকাংশ সেক্টরেই আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আমদানি ও রপ্তানি বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা একটু ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত এবং জনগণ স্বস্তিতে আছে। হরতাল হলে দেশে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া, কারণে অকারণে হরতাল দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপকভাবে নিরুত্সাহিত করেছে। এ অবস্থায় হরতালের বিকল্প অন্য কর্মসূচি গ্রহণে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
