‘ই-সেবায় খরচ কমে গিয়ে সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে’

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৬:২৮
জনগণের দোরগোড়ায় ই-সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা প্রদানে নানা ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করা ছাড়াও দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাতে সহজে, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে সরকারি এবং বেসরকারি সেবা সমূহ গ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে সেবা প্রদানে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং তার প্রসারের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন প্রোগ্রামের আওতায় ‘সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড’ (এসআইএফ) গঠন করা হয়।
সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড নিয়ে ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা হয় এসআইএফ-এর পরিচালক মো: মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, আব্দুল্লাহ্‌ নূহ
ইত্তেফাক : কবে থেকে এই ফাণ্ডের যাত্রা শুরু হয়?
মোস্তাফিজুর : ২০১৩ সালের মার্চ মাস হতে এই ফান্ডের যাত্রা শুরু হয়।
ইত্তেফাক : এই ফাণ্ডের লক্ষ্য কী?
মোস্তাফিজুর : এই ফান্ডের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নেয়া উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলোক পৃষ্ঠপোষকতা করা, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এর সফলতা নিশ্চিত করা এবং এর আওতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে একটি উদ্ভাবনী সংস্কৃতি তৈরি এবং তা টেকসইকরণে সহায়তা করা।
ইত্তেফাক : এই ফাণ্ড পাবে কারা?
মোস্তাফিজুর : ব্যক্তি, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এনজিও, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যে কেউ এই ফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে।
ইত্তেফাক : সার্ভিস ইনোভেশন ফাণ্ডের আইডিয়াটা কিভাবে এসেছে একটু বিস্তারিত বলবেন কী?
মোস্তাফিজুর রহমান :
সচিব এবং ই-গভ ফোকাল পয়েন্টদের (বর্তমানে যারা ইনোভেশন অফিসার নামে পরিচিত) বিভিন্ন কর্মশালার মাধ্যমে প্রায় ৭০০ এরও বেশি কুইক উইন আইডিয়া বের হয়ে আসে। এই আইডিয়াগুলোর মধ্যে হতে প্রায় ১২০টি আইডিয়া বাস্তবায়ন করার জন্য বেছে নেয়া হয়। ইউআইএসসি এবং ই-পুর্জি-এর মতো অনেক কুইক উইন উদ্যোগ আছে যেগুলো সফল হয় এবং অন্যান্য অফিসে বাস্তবায়িত হয়। অনেকগুলো আইডিয়া বাস্তবায়ন করা যায় নি। তবে তা থেকে এটুআই, সরকার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ বেশকিছু অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে।
কারিগরি এবং আর্থিক সহায়তা না থাকার কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের সেবা প্রদান সহজ করার অনেক উদ্যোগ টিকে থাকেনি অথবা কখনো উদ্যোগটি চালু করার কার্যকর কোন পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। লক্ষ্য করে দেখা যায় যে,  সেবা প্রদানে উদ্ভাবনের অনেকগুলো প্রতিকূলতার মধ্যে একটা হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ফান্ডের অভাব। যে কারণে এ ফাণ্ড গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
ইত্তেফাক : সার্ভিস ইনোভেশন ফাণ্ডে জনগণ কিভাবে উপকৃত হবে?
মোস্তাফিজুর : আগেই বলেছি, জনগণকে সেবা প্রদান নিশ্চিত করতে নানা রকম চিন্তাভাবনা করে থাকে। যার উদ্দেশ্য থাকে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দেয়া। সার্বিকভাবে সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনকে সহযোগিতা করা এবং এ ধরনের উদ্ভাবনের পরিমান বাড়িয়ে দেবে এ ফাণ্ড। সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগুলোকেই পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে। তাতে করে জনগণের জন্য সেবা ও তথ্যপ্রাপ্তি সহজ থেকে সহজতর হবে।
ইত্তেফাক : এর ফলে আর কী সুবিধা হবে বলে আপনি মনে করেন?
মোস্তাফিজুর : জনগণকে সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই ফাণ্ডটি। এর ফলে জনগণের সেবা প্রাপ্তি বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সরকারের সঙ্গে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক এনজিও,  যে কোন ব্যক্তি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা বিভাগ জড়িত হচ্ছে। যা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ তৈরি হওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করবে বলে আশা করা হয়।
ইত্তেফাক : সেবা তো জনগণ আগেও পেয়েছে, এসআইএফ-এর মাধ্যমে নতুন কী সুবিধা পাবে জনগণ বা সুনির্দিষ্ট কী ধরনের সেবাকে এই ফাণ্ডের আওতাধীন বলে বিবেচনা করা হবে?
মোস্তাফিজুর : সরকারি সকল ধরনের সেবার সাথে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু এই ফাণ্ডটিতে চারটি মানদণ্ডের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন বা উদ্ভাবন (ইনোভেশন) হয়েছে বলে বিবেচিত হবে এবং সেগুলোকে সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড প্রদানের জন্য বিবেচিত হবে। সেগুলো হলো:
ক) পেতে সময় তুলনামূলকভাবে কম লাগবে ( ভ্রমন, অপেক্ষাকালীন সময় এবং সম্পূর্ণ লেনদেন করার সময়সহ)
খ) জনগণের খরচ কমে যাবে, সেবাপ্রাপ্তি সহজ হবে (ফি, ভ্রমণ খরচ ইত্যাদি ছাড়াও অতিরিক্ত অন্যান্য খরচ)
গ) ভ্রমণের সংখ্যা বা পরিমাণও কমে যাবে। এবং সর্বোপরি
ঘ) সেবার মান বৃদ্ধি হবে।
ইত্তেফাক : জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছে দিতে হলে তো জনগণের কাছে যেতে হবে। সেক্ষেত্রে কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
মোস্তাফিজুর : সে চিন্তা এবং সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের মাধ্যমে সরকারের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যারা সরাসরি জনগণকে সেবা দিয়ে থাকে।