আদালতের সব ধরনের অনিয়ম তদন্তের জন্য প্রধান বিচারপতিকে চিঠি দেবেন গণফোরাম সভাপতি ও প্রবীণ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, চলতি অবকাশ শেষে আদালত খুললেই এ চিঠি দেয়া হবে। ড. কামাল বলেন, অন্তত ১০ জন সাবেক প্রধান বিচারপতি জীবিত আছেন। তাদের নিয়ে কমিটি করে এসব অনিয়মের তদন্ত করতে হবে। চিঠিটা দিচ্ছি, আশা করি দুই লাইনের হলেও উত্তর পাবো। সর্বোচ্চ আদালতের দেড়শ’ বছরের ঐতিহ্য রয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে আদেশ চেয়ে না পেলে স্বাধীনতা অর্থহীন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ পরিষদ আয়োজিত ‘৪৩ তম মহান বিজয় দিবস ও বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল আরো বলেন, সরকার মনে করছে তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু কেউ যদি মনে করে আজীবন ক্ষমতায় থাকবে তবে তারা পাগলের স্বর্গে বসবাস করছে। তিনি বলেন, যারা ক্ষমতায় আছে তারা ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুট করে জনগণকে ‘ভি চিহ্ন’ দেখাচ্ছে। আমাদের ঐতিহ্যের সবগুলো খাত নষ্ট করে হলেও তারা ক্ষমতায় থাকতে চায়।
প্রবীণ এই আইনজ্ঞ বলেন, যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করছে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নাগরিকদের কথার কোনো মূল্য তাদের কাছে নেই। জনগণের কথা শোনার ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। ক্ষমতার মালিক জনগণ। ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে এই মালিকানা পেয়েছি। তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের কাজ। জনগণকে মনে রাখতে হবে আপনারাই রাষ্ট্রের মালিক। আপনাদের অসহায় বোধ করে বসে থাকার কোনো কারণ নেই। ঘরে ঘরে মানবাধিকার রক্ষার চেষ্টায় দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।
দেশের সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল বলেন, প্রতিটি সরকারেই কালা-বোবা লোক থাকে। তবে এই সরকারের সবাই কালা-বোবা না। শিশু জিহাদকে উদ্ধারে সরকারের ব্যর্থতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা কালা-বোবা না থেকে ব্যর্থতার কথা বলুন। আর যেসব সংসদ সদস্য মনে করেন আপনাদের সঙ্গে সরকারের মিলছে না, তারা সরে দাঁড়ান। আপনাদের ১৬ কোটি মানুষের কথা শুনতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি নূরুল হুদা মিলুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, সাবেক এমপি গোলাম মাওলা রনি, সংগঠনের উপদেষ্টা কাজী সিরাজ, নির্বাহী পরিচালক তালুকদার মুনিরুজ্জামান মনির, ব্যারিস্টার মেজর (অব.) সরোয়ার হোসেন প্রমুখ।