বিভিন্ন জেলায় সহিংসতায় নিহত ৩, আহত শতাধিক

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:১৭

বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ ও আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র রক্ষা দিবস’ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। দেশের প্রায় সব জেলাগুলোতেই এ দুটি রাজনৈতিক দল মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। দুই জোটের কর্মসূচি আর পাল্টা কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বেশ কয়েকটি জেলায় পুলিশ ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের সংঘর্ষ হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে নাটোরে ২ জন, রাজশাহীতে ১ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৪৩ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অপর দিকে দেশের বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসহ বিএনপি-জামায়াতের অন্তত ২ শতাধিক নেতাকর্মী আটকের খবর পাওয়া গেছে । এদিকে নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬ জানুয়ারি জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নাটোরে ছাত্রদলের দুই নেতা নিহত: নাটোরের তেবাড়িয়া হাটে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর গুলিতে দুই ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন ও রায়হান আলী নিহত ও ১৫ বিএনপি নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এই হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নাটোর জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে ২০ দলীয় জোট। আহতদের নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাব, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতদের লাশ নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। নিহতের এঘটনায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনুল হক আওয়ামী লীগকে অভিযোগ করে বলেছেন, পুলিশের সামনেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা গুলি চালায়। এতে দুই ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন ও রায়হান আলী নিহত হন এবং ১৫ থেকে ২০ জন দলীয় নেতাকর্মী আহত হন। এই ঘটনার পর পরই জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। এদিকে এসব ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার নাটোরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে বিএনপি।
রাজশাহীতে ব্যবসায়ী নিহত: রাজশাহীর পুঠিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ (৪২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৫ পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বিএনপি দাবি করেছে আব্দুল মজিদ তাদের দলীয় কর্মী। তিনি পুলিশের গুলিতেই নিহত হয়েছেন। তবে রাজশাহীর পুলিশ সুপার আলমগীর কবির সংঘর্ষে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘আব্দুল মজিদ ঠিক কার গুলিতে নিহত হয়েছেন তা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। সংঘর্ষের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরাও গুলিবর্ষণ করেছে। পুলিশ শুধু রাবার বুলেট, টিয়ারসেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানান, বিকাল ৩টার দিকে বানেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাজারের পশ্চিমদিকের ট্রাফিক মোড়ে মিছিল শেষে সমাবেশ করছিল। কিছুক্ষণ পর পুঠিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম জুম্মাসহ বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী মাড়িয়ার দিক থেকে মিছিল নিয়ে বাজারের পূর্বদিকের মহাসড়কে ওঠেন। বিএনপির মিছিলটি বাজারের পশ্চিম পার্শ্বের ট্রাফিক পয়েন্টে (যেখানে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল) যেতে চাইলে পুলিশ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাধা দেয়। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ বিএনপির নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে স্থানীয় চৈতালী ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি চারঘাট উপজেলার সলুয়া ইউনিয়নের মাড়িয়া গ্রামের মৃত খৈমুদ্দিনের ছেলে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিহত ১, আহত ৪: জেলার কানসাটে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে জমসেদ আলী (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় মঙ্গলবার জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের আহ্বান করা হয়েছে। এঘটনায় ১ পুলিশ ও ১ বিজিবিসহ ৪ জন আহত হয়। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায় আহতদের মধ্যে এরফান (৩৫) ও মেহেদি হাসানকে (২৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদগঞ্জে ৪ জন গুলিবিদ্ধ: ফরিদগঞ্জে বিএনপির কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের বাধার প্রেক্ষিতে সংঘর্ষে সোমবার সকাল ১১টার দিকে এক শিশুসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ ও ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির একটি কালো পতাকা মিছিল বড়ালী হতে ফরিদগঞ্জ বাজারে আসার সময় আলমদিনা হাসপাতালের সম্মুখে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের যৌথ বাধায় সংঘর্ষ বেধে যায়। অপরদিকে কেরোয়া এলাকা হতে একটি মিছিল বাজারে প্রবেশ করার সময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের বাধায় কেরোয়া ব্রিজ এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ দুইটি স্থানে গুলিবিদ্ধ হয় কাছিয়ারা গ্রামের আবু বকরের ছেলে আবু তাহের (১২), মাথায় গুলিবিদ্ধ একই এলাকার তাফাজ্জল হোসেনের ছেলে মানিক (৩০), খুরুমখালী গ্রামের ছায়েদ আলীর ছেলে রানা মিয়া (৩৫), আলোনিয়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে হুমায়ূন (২৮) আহত হয়। শিশু আবু তাহেরকে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিত্সক জানান।
সুনামগঞ্জে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: সুনামগঞ্জে পুলিশ-আওয়ামী লীগ-বিএনপি এবং পুলিশ-আওয়ামী লীগ-ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গতকাল  সোমবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত শহরের ডিএস রোড, ট্রাফিক পয়েন্ট, কালিবাড়ি ও পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় থেমে থেমে এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকালে জেলা ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল হাসান রাজু-সহ তিন ছাত্রদল কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
চট্টগ্রামে জামায়াত-বিএনপির
সাথে পুলিশের সংঘর্ষ
চট্টগ্রামে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিকাল ৪টার কিছু সময় আগে পুলিশের বাকবিতণ্ডার জের ধরে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে লাভলেন থেকে কাজীর দেউড়ি হয়ে আলমাস মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সংঘর্ষে ২ পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী ও পথচারীসহ শতাধিক আহত এবং একটি পিকআপ ভস্মীভূত হয়।
নারায়ণগঞ্জে গুলিবিদ্ধ ১০: নারায়ণগঞ্জে সোমবার সকালে পৃথক স্থানে বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ আরো ২০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদলের একটি মিছিলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া করে। অন্যদিকে বন্দরের নবীগঞ্জ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
নোয়াখালীতে আহত ২০: গতকাল বিএনপির কালো পতাকা ও বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে পুলিশ ও  বিএনপি কর্মীদের মধ্যে জেলা জজ কোর্ট সড়ক, জামে মসজিদ মোড়, শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের সামনে, হাউজিং এস্টেট এলাকায় ও দত্তের হাটে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সব স্থানে পুলিশ শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২২ জন বিএনপি কর্মীকে আটক করে। অপর দিকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলাকালে শহরের মফিজ প্লাজার সামনে একটি সিএনজি অটো রিকশায় অগ্নি সংযোগ ও বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি যানবাহনে ভাংচুর ঘটে।
কুলাউড়ায় আহত ২০: কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী কুলাউড়ায় সাবেক এমপি এমএম শাহীনের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির একাংশ শহরে লাঠি মিছিল বের করে। এতে পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠি চার্য করে এবং টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
পাবনায় আহত ১২: পাবনায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১২ জন আহত হয়। এসময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ও ১টি প্রাইভেট কারসহ ৫টি গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এই সংঘর্ষ হয়।
বোচাগঞ্জে সংঘর্ষ, আহত ১০: গতকাল দুপুরে বোচাগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা এবং ২০ দলীয় ঐক্য জোটের ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনের মিছিল সেতাবগঞ্জ পৌর শহরে বের হয়। মিছিল দুইটি স্থানীয় চৌরাস্তায় মুখোমুখি অবস্থান নিলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় ১০ জন আহত হন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বান্দরবানে দফায় দফায় সঘর্ষ: বান্দরবানে আওয়ামী লীগ-বিএনপি দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছে। জেলা বিএনপি অফিসসহ বেশকয়েকটি দোকানপাট ভাংচুর করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর বারোটার সময় বান্দরবান বাজারে এই ঘটনা ঘটে। বান্দরবান বাজারের তিন নম্বর গলি এলাকায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি মিছিল মুখোমুখি হলে নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। দফায় দফায় চলে ঘণ্টাব্যাপী ত্রিমুখী সংঘর্ষ। এ সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক দফায় লাঠি চার্জ করে। 
ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত ১৫: গতকাল সোমবার ঝিনাইদহ শহর ও শৈলকুপায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে  তিন পুলিশসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শর্টগানের গুলি বর্ষণ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। এসময় বিএনপি কর্মীরা ১টি গাড়ী ভাংচুর করে।
কুষ্টিয়ায় আগুন, হামলা, ভাংচুর: গতকাল সকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কালো পতাকা মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণকালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিক্ষুব্ধ মিছিলকারীরা একটি প্রাইভেট কারসহ অন্তত ২০টি ইজিবাইক ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা-ভাংচুর ও আগুন লাগিয়ে দেয়।
মেহেরপুরে ১০ বিএনপি কর্মী আটক: মেহেরপুরে ১০ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার ভোর রাতে গাংনী থানা পুলিশের অভিযানে ৬ জন ও মুজিবনগর থানা পুলিশের অভিযানে ৪ জনকে আটক করা হয়।
খাগড়াছড়িতে আহত ৩৫: খাগড়াছড়িতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ ও পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য ও তিন সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সকালে জেলা শহরের শাপলা চত্ব্বর, ভাঙ্গাব্রীজ, পেঙ্গুইন মোড় এলাকায় থেমে থেমে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শটগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছুঁড়েছে পুলিশ। জেলা শহরে মোতায়েন করা হয়েছে ১ প্লাটুন বিজিবি।
পিরোজপুরে আহত ৮: পিরোজপুরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ পৃথকভাবে কর্মসূচি পালনকালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আটজন আহত হয়েছে। এসময় ছবি তুলতে গেলে সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি জিয়াউল হক ও আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি হাসান মামুন আহত হয়। পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে বেশকয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে।
রাঙ্গামাটিতে বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষ: রাঙ্গামাটিতে বিএনপির ২০ দলীয় জোট ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়াসহ লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এসময় রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
দিনাজপুরে সংঘর্ষ: দিনাজপুরে বিএনপি-জামায়াত গতকাল সোমবার গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করতে গিয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ২৫ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সেতাবগঞ্জ পৌর বিএনপি’র কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও উপজেলা জামায়াতের অফিস ভাংচুর করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বিএনপি-জামায়াত কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। শহরে ২০/২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ করা হয়।
খাগড়াছড়িতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: খাগড়াছড়িতে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছে। শহরের শাপলা চত্বর, ভাংগাব্রিজ, পেঙ্গুইন মোড় এলাকায় থেমে থেমে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ বেশকয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। ১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ১৫: সিরাজগঞ্জে বিএনপি-ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ত্রিমুখী সংঘর্ষে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহত জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল হাসান রঞ্জন, শহর শিবিরের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম শহীদ. শিবিরকর্মী শাহাদাত্, আতিক, রমজান সেখম সাদী, ইশান ও আশিককে বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রায় অর্ধশতাধিক টিয়াসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।
ফরিদপুরে জামায়াতের অফিস ভাংচুর: ফরিদপুরে আওয়ামী লীগ ও এর অংঙ্গ সংগঠনসমূহ গণতন্ত্র রক্ষা দিবস ও বিএনপি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করেছে। দুই দলের কর্মসূচিকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ছিল শহর জুড়ে। দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। দূরপাল্লার সকল বাস চলাচল রবিবার সন্ধ্যা থেকেই ছিল বন্ধ।
কুমিল্লায় আটক ৩৮: কুমিল্লায় বিএনপি ও জামায়াত শিবিরের ৩৮ জন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। নাশকতার আশঙ্কায় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা পুলিশের ডিআইও-১ মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, আটককৃতরা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনসহ জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার আশংকায় পুলিশ তাদের আটক করেছে।
ময়মনসিংহে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ : ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজার এলাকায় পুলিশ বিএনপি সংঘর্ষে আহত হয়েছে ৬ জন। এ ঘটনায় ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সন্ধ্যায় পূর্ব ঘোষিত বিএনপির কর্মসূচি শেষ করে দলীয় কার্যালয় থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা যাওয়ার সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৮/১০ টেয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
যশোরে বিশেষ অভিযানে ১৩৩ জন আটক: যশোরে বিশেষ অভিযানে পুলিশ গত দুদিনে ১৩৩ জনকে আটক করেছে। আটককৃতদের মধ্যে ৪৬ জন জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মী। এদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সভাপতি টিএস আইয়ূব রয়েছেন। জেলা পুলিশের মুখপাত্র সহকারী পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, শনিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। রবিবার সকাল পর্যন্ত ৫১ জন এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত ৮২ জন আটক হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ৪৬ জন রাজনৈতিক কর্মী এবং অন্যরা বিভিন্ন মামলার আসামি।
যশোরে ঝটিকা মিছিলেই শেষ: যশোরের রাজপথ ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। সোমবার সকালে ও বিকেলে মিছিল সমাবেশ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা রাজপথ দখলে রেখেছিল। আর বিএনপি ঝটিকা মিছিল করেই কর্মসূচি শেষ করেছে।
কচুয়ায় সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ: গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে কচুয়া উপজেলার জগতপুর বাজার এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৩০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এছাড়া একই সড়কের চক্রা নামক স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা গাছ ফেলে প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় এ স্থানে উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা একটি বোগদাদ বাস ও বিএসআরএম কোম্পানির একটি বড় ট্রাক পুড়িয়ে দেয় ও ৭/৮টি গাড়ি ভাংচুর করে। কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ইবরাহীম খলিল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনান্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কসবায় ত্রিমুখী সংঘর্ষ:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুপুরে কসবায় ছাত্রলীগের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও গণতন্ত্র বিজয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় কসবা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপির সমর্থিতদের ধনুক দিয়ে মিছিলে তীর নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশসহ তিন পক্ষের ৩৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ছোড়া শতাধিক রাবার বুলেটে মামুন (২৩), সালাম (২৫) নামক ছাত্রদলের দুই কর্মীর চোখে আঘাত লাগলে তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়।
খুলনায় আটক ৬৫: ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচিকে সামনে রেখে রবিবার রাত থেকে গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত খুলনা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৬৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের মধ্যে নগরীর ২২ জন ও জেলার ৪৩ জন রয়েছেন। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশীদ আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাহুবলে সংঘর্ষে আহত ২০: হবিগঞ্জের বাহুবলে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে ওই উপজেলার মিরপুর চৌমুহনায় বিএনপি একটি মিছিল বের করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তাদের মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
সীতাকুণ্ডে ২৩ জন আটক: সীতাকুণ্ডে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জামায়াত-বিএনপির ২৩ নেতাকর্মীকে আটক করেছে।
রায়পুরে সংঘর্ষ, আহত ১০: রায়পুর পৌর শহরে বাসটার্মিনাল এলাকার বিএনপির দলীয় কার্যালয় হতে একটি মিছিলের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ১০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিপেক্ষ করে।

সিলেটে সংঘর্ষ, ১৫ জন আহত: সিলেটে গতকাল উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত হয়েছে। নগরীতে গতকাল লোক ও যানবাহন চলাচল ছিল কম। দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলও ছিল কম। এদিকে সিলেট বিভাগের  বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ধরপাকড়ও করেছে। নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকায় শিবির-পুলিশে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ১৫ জন আহত ও ১৫টি যানবাহন ভাংচুর হয়েছে।