ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৬

যথাযোগ্য মর্যাদায় ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য স্থানের মতো বাংলাদেশেও প্রাণস্পর্শী শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দিবসটি পালন করা হয়। সর্বস্তরের মানুষ এবং বিভিন্ন সংগঠন ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। রাজধানী ঢাকা, সকল বিভাগীয় নগরী, জেলা-উপজেলা, নগর-শহর ও সারাদেশের প্রত্যন্ত জনপদসহ সর্বত্র বিপুল উত্সাহ-উদ্দীপনায় দিনটি পালিত হয়।

কর্মসূচির মধ্যে ছিল মহানবী (সা.)-এর পূর্ণাঙ্গ জীবন আলোচনা, সমাবেশ, মিলাদ মাহফিল, মোনাজাত এবং শোভাযাত্রা। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-র তাত্পর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বাণী দিয়েছেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রবিবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার  আয়োজন করেছে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে শনিবার বাদ মাগরিব ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানমালা উদ্বোধন করেন। পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছেঃ ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার, ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি ও মহানবী (সা.)-এর জীবনভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী, ইসলামী বইমেলা, ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক ছেলেমেয়েদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান, ক্বিরাত ও হাম্দ-নাত এবং রাসূল (সা.) শানে কবিতা পাঠের আসর প্রভৃতি।
সুপ্রিম কোর্ট মাজার শরিফ জামে মসজিদ শনি ও রবিবার দুইদিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছে। রবিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ মিলাদ মাহফিল ও দোয়ার আয়োজন করে। একইদিন নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে এবং জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের পরিচালনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আশেকানে গাউছিয়া মাইজভান্ডারির উদ্যোগে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রবিবার সেমিনার, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং পরে সাড়ে ১১টায় জশনে জুলুশে শোভাযাত্রা বের হয়। জমিয়তে আশেকানে মাইজভান্ডারি উত্তরা হাউস বিল্ডিং (নর্দান টাওয়ারের বিপরীত) থেকে জশনে জুলুশ বের করে। জাতীয় প্রেসক্লাব রবিবার বাদ আছর আলোচনা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে। আশেকানে গাউছিয়া মাইজভান্ডারি গুলিস্তান নাট্যমঞ্চ থেকে বিশাল জশনে জুলুসে র্যালি বের করে। নেতৃত্ব দেন সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আলহাজ্ব শাহসুফি মাওলানা সৈয়দ সহিদউদ্দীন আহমদ ভাইজভান্ডারি। এসময় এমপি হাজী সেলিম উপস্থিত ছিলেন। আশেকানে মাইজভান্ডারি এসোসিয়েশন দিবসটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে। শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন মাইজভান্ডার দরবার শরীফের পীর শাহসূফী হযরত মাওলানা ছৈয়দ মুজিবুল বশর মাইজভান্ডারি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এমপি। মহিঝিল বাবে রহমত দেওয়ানবাগ শরীফে আশেকে রাসুল (সা.) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। নেতৃত্ব দেন হযরত সৈয়দ দেওয়ানবাগী। ঢাকা মহানগরীসহ সারাদেশে মসজিদে মসজিদে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। হযরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতি (র.)-এর দরবারে কোরআন তেলাওয়াত, হাম্দ ও না’তে রাসূল (সা.) এবং বাদ মাগরিব ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।