রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ক্রম বাতিল

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৫

দেশের রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ক্রম তালিকা বাতিল সংক্রান্ত হাইকোর্টের আদেশ কিছু অভিমতসহ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে সকল সরকারি কর্মকর্তার উপরে স্থান হবে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্যদের। প্রধান বিচারপতির স্থান হবে স্পিকারের সমমর্যাদায়, জেলা জজদের অবস্থান হবে সচিবের উপরে। এছাড়া আপিল বিভাগের বিচারকরা পূর্ণ মন্ত্রীর এবং হাইকোর্টের বিচারকরা প্রতিমন্ত্রীর সমান মর্যাদা ভোগ করবেন। এটর্নি জেনারেলও থাকবেন সচিবের উপরে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারকের বেঞ্চ হাইকোর্টের রায় কিছু সংশোধনসহ গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত সরকারের আপিল নিষ্পত্তি করেন।

সরকারের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব বিজনেস) অনুযায়ী, ১৯৮৬ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরি করে তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকার তা ২০০০ সালে সংশোধন করে। সংশোধিত এই ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস এসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব আতাউর রহমান ২০০৬ সালে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আবেদনে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স তৈরির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক পদ, সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংজ্ঞায়িত পদগুলো প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিচের ক্রমিকে রাখা হয়েছে দাবি করে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. মইনুল ইসলাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সরকারের প্রণীত ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বাতিল ঘোষণা করে আট দফা নির্দেশনা দেয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, মুখ্য বিচারিক হাকিম ও মুখ্য মহানগর হাকিমদের পরের ক্রমিকে থাকবেন তিন বাহিনীর প্রধানরা। আর সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের অবস্থান হবে তিন বাহিনীর প্রধানদের পরে। একইসঙ্গে আদালত জেলা জজদের রাষ্ট্রাচার (প্রটোকল) প্রদানেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিলো, নতুন ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সের প্রথমেই সব সাংবিধানিক পদ গুরুত্ব অনুসারে রাখতে হবে। এরপর থাকবে সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংজ্ঞায়িত পদ। আদালত বলেছেন, জেলা জজদের পদ সংবিধানে উল্লিখিত পদ হওয়ায় সাংবিধানিক পদগুলোর পর পরই তার অবস্থান হবে। সংবিধানে প্রদত্ত সংজ্ঞা অনুযায়ী, জেলা জজ বলতে অতিরিক্ত জেলা জজকেও বোঝায়। তাই অতিরিক্ত জেলা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটদের জেলা জজদের পর পরই রাখতে হবে।

গতকাল আপিল বিভাগ হাইকোর্টের ওই আদেশ পুরোপুরি গ্রহণ না করে কিছু সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে দেয়। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রব চৌধুরী বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই জানা যাবে হাইকোর্টের ওই আদেশের কোন কোন অংশ আদালত সংশোধন করেছেন। রিটকারীর কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট এম আসাদুজ্জামান বলেন, আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন করে রাষ্ট্রীয় পদ মর্যাদার ক্রম তালিকা তৈরি করতে হবে। আপিল বিভাগ হয়ত এ বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেবেন।