আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ইজতেমা সামনে রেখে জমায়েত হচ্ছে মুসল্লিরা। ভোগান্তি সহ্য করে দলে দলে আসছেন মুসল্লিরা। অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুসল্লিদের। বাস না পেয়ে অনেকে পায়ে হেঁটে ইজতেমা ময়দানে এসেছেন। তবে অবরোধ থাকা সত্ত্বেও লাখো মুসল্লির পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে তুরাগ তীর। টঙ্গী সেজেছে নতুন সাজে। পুরো নগরী উত্সবমুখর।
৯ জানুয়ারি শুক্রবার ফজরবাদ আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হবে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে জুমার পরে। ১১ জানুয়ারি দুপুরে অর্থাত্ জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্মেলন বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে।
এরই মধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদীতে ৯টি ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন। ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, হালকা নম্বর বসানো শেষ হয়েছে। আগত মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনি রোধক প্রায় ৩শটি বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে মরণঘাতী ইবোলা ভাইরাস আক্রান্ত ৫টি দেশের (লাইবেরিয়া, গিনি, নাইজেরিয়া, মালি ও সিয়েরালিওন) নাগরিকদের স্ব স্ব দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে ইজতেমায় অংশ নিতে নিরুত্সাহিত করা হয়েছে। এছাড়াও যে সব দেশে জঙ্গিগোষ্ঠীর তত্পরতা রয়েছে সেসব দেশের নাগরিকদের ইজতেমায় অংশগ্রহণে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে।
প্রথম দফায় খিত্তাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান:
ইজতেমার প্রথম দফায় ঢাকার উত্তর থেকে দেশের উত্তরভাগ অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে ১নং খিত্তায় গাজীপুর-১, ২নং খিত্তায় গাজীপুর-২, ৩-১৩নং খিত্তায় ঢাকা-৩ থেকে (ঢাকা-১, ২ বাদে) ১২, ১৪নং খিত্তায় সিরাজগঞ্জ, ১৫নং খিত্তায় নরসিংদী, ১৬নং খিত্তায় ফরিদপুর, ১৭নং খিত্তায় রাজবাড়ী, ১৮নং খিত্তায় শরীয়তপুর, ১৯(১-২) খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ২০নং খিত্তায় নাটোর, ২১নং খিত্তায় শেরপুর, ২২ নং খিত্তায় দিনাজপুর, ২৩নং খিত্তায় হবিগঞ্জ, ২৪নং খিত্তায় রংপুর, ২৫নং খিত্তায় লালমনিরহাট, ২৬নং খিত্তায় গাইবান্ধা, ২৭নং খিত্তায় জয়পুরহাট, ২৮নং খিত্তায় রাজশাহী, ২৯নং খিত্তায় সিলেট, ৩০নং খিত্তায় চাঁদপুর, ৩১নং খিত্তায় ফেনী, ৩২নং খিত্তায় চট্টগ্রাম, ৩৩নং খিত্তায় বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, ৩৪নং খিত্তায় বাগেরহাট, ৩৫নং খিত্তায় নড়াইল, ৩৬নং খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ৩৭নং খিত্তায় যশোর, ৩৮নং খিত্তায় ভোলা, ৩৯নং খিত্তায় বরগুনা ও ৪০নং খিত্তায় ঝালকাঠি জেলার মুসলিরা অবস্থান করবেন। এদিকে মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়দানের উত্তর দিক থেকে ক্রমানুসারে দক্ষিণ দিকে খিত্তার নম্বর বসানো হয়েছে।
দ্বিতীয় পর্বে খিত্তাওয়ারি মুসল্লিদের অবস্থান:
খিত্তা নং-১ (নারায়ণগঞ্জ-১), খিত্তা নং-২ (নারায়ণগঞ্জ-২), খিত্তা নং-৩ (ঢাকা-১, হালকা-৩০১-৩২৫), খিত্তা নং-৪ (ঢাকা-২, হালকা-৬০১-৬৩৯), খিত্তা নং-৫ (কক্সবাজার), খিত্তা নং-৬ (মানিকগঞ্জ), খিত্তা নং-৭ (পিরোজপুর), খিত্তা নং-৮ (পটুয়াখালী), খিত্তা নং ৯(১) (টাঙ্গাইল-ক), খিত্তা নং ৯(২) (টাঙ্গাইল-খ), খিত্তা নং-১০(১) (জামালপুর-ক), খিত্তা নং-১০(২) (জামালপুর-খ), খিত্তা নং-১১ (বরিশাল), খিত্তা নং ১২ (নেত্রকোনা), খিত্তা নং-১৩ (কুমিল্লা), খিত্তা নং-১৪ (মেহেরপুর), খিত্তা নং-১৫ (ঝিনাইদহ), খিত্তা নং-১৬ (ময়মনসিংহ-১), খিত্তা নং-১৭ (ময়মনসিংহ-২), খিত্তা নং-১৮ (ময়মনসিংহ-৩), খিত্তা নং-১৯ (লক্ষ্মীপুর), খিত্তা নং-২০ (বি-বাড়িয়া), খিত্তা নং-২১ (কুড়িগ্রাম), খিত্তা নং-২২ (নোয়াখালী), খিত্তা নং-২৩ (নীলফামারী), খিত্তা নং-২৪ (ঠাকুরগাঁও), খিত্তা নং-২৫ (পঞ্চগড়), খিত্তা নং-২৬ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), খিত্তা নং-২৭ (বগুড়া), খিত্তা নং-২৮ (পাবনা), খিত্তা নং-২৯ (নওগাঁ), খিত্তা নং-৩০ (মুন্সীগঞ্জ-১), খিত্তা নং-৩১ (মুন্সীগঞ্জ-২), খিত্তা নং-৩২ (মাদারীপুর), খিত্তা নং-৩৩ (গোপালগঞ্জ), খিত্তা নং-৩৪ (সাতক্ষীরা), খিত্তা নং-৩৫ (মাগুরা), খিত্তা নং-৩৬ (খুলনা), খিত্তা নং-৩৭ (সুনামগঞ্জ), খিত্তা নং-৩৮ (মৌলভীবাজার), ৩৯ (কুষ্টিয়া)।
যেসব দেশ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা:
জঙ্গি তত্পরতার আশঙ্কায় এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম বারের মতো মুসলিম বিশ্বের অন্তত ১০টি দেশের নাগরিকদের ময়দানে আসা-যাওয়ার ভিসার ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা আরোপ করা হয়েছে। দেশগুলো হলো— পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, ইরাক, সুদান, সিরিয়া, জর্ডান, মিসর ও ইয়েমেন।
আইনশৃঙ্খলা জোরদার:বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে টঙ্গীতে আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেক্টরে ভাগ করে ৫ স্তরের নিরাপত্তার লক্ষ্যে ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে প্রায় ১২ হাজার পুলিশসহ র্যাব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে র্যাবের কমিউনিকেশন উইংয়ের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হচ্ছে ৬০টি ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। এছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার ও নাইটভিশন গগল্স। র্যাবের ইন্টেলিজেন্সের সদস্যরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ ইজতেমা মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটতে পারে সে ব্যাপারে কড়া নজরদারি রাখবেন। প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী ২ জন করে গোয়েন্দা সদস্য অবস্থান করবেন। তারা কোনো প্রকার সন্ত্রাসী তত্পরতার ইঙ্গিত পেলে বিশেষ সিগন্যালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তত্ক্ষণিক অবহিত করবেন। এছাড়াও তারা ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য ল্যাপটপ কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন। ১৬টি গাড়িসহ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সতর্কাবস্থায় রাখা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন স্থানে বসানো র্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পর্যবেক্ষণ করবেন।
ইজতেমায় যোগাযোগ ব্যবস্থা
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, এবছর ইজতেমার দুই পর্বেই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে। এরজন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ইজতেমার আগের দিন থেকে ৪টি বিশেষ ট্রেন ছাড়াও ’আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা-লাকসাম-আখাউড়া-ময়মনসিংহ-ঈশ্বরদীতে ১৫টি ট্রেন চলাচল করবে। প্রতি আন্ত:নগর ট্রেন প্রতিদিন টঙ্গী রেলষ্টেশনে থামবে। ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য ট্রেনে ওজু করা, নামাজ পড়াসহ সকল ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অপরদিকে বিআরটিসির পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০টি বাস দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টি বাসে ইজতেমার বিশেষ স্টিকার লাগানো থাকবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশি মেহমানদের আনা- নেয়ার জন্য ৬টি এসি বাসও থাকবে।
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের গাড়ি পার্কিং
বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য স্থান নির্ধারণ করেছে ট্রাফিক বিভাগ: ঢাকা মহানগর এলাকা-(১) সাধারণ পার্কিং-১: উত্তরা রাজউক কলেজের আশেপাশে এবং ৬ ও ৭ নং সেক্টর, (২) সিলেট বিভাগ পার্কিং : উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর, (৩) বরিশাল বিভাগ-ধউর ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন পার্কিং (আশা বিশ্ব বিদ্যালয়ের খালি জায়গা), (৪) ঢাকা বিভাগ পার্কিং- উত্তরা সোনারগাঁও জনপথ সড়কের পূর্ব হতে পশ্চিম মাথা, (৫) খুলনা বিভাগ পার্কিং-উত্তরা ১০ ও ১১নং সেক্টরের সড়কের উভয়পাশে, (৬) রংপুর বিভাগ- প্রত্যাশা হাউজিং, (৭) চট্টগ্রাম বিভাগ- গাউসুল আজম এভিনিউ (১৩নং সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত হতে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরীবে নেওয়াজ রোড), (৮) রাজশাহী বিভাগ পার্কিং- কামারপাড়া হাউজিং মাঠ ও উত্তরা ১০নং সেক্টরের খালি জায়গা। ঢাকা জেলা- আশুলিয়া কলেজ মাঠ ও আশুলিয়া হাইস্কুল মাঠ। গাজীপুর জেলা- (১) টঙ্গীর কে-২/নেভি সিগারেট ফ্যাক্টরির পাশে, (২) কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস গেট গ্যাপ ও পূর্ব পাশের ফাঁকা জায়গায়, (৩) কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণ, (৪) মেঘনা টেক্সটাইল মিল সংলগ্ন রাস্তার উভয় পাশে, (৫) সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী মাঠ, (৬) সফিউদ্দিন সরকার মাঠের উত্তরপাশে টিআইসি মাঠ, (৭) জয়দেবপুর- চৌরাস্তা ট্রাকস্ট্যান্ড, (৮) চান্দনা-হাইস্কুল মাঠ ও (৯) ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ মাঠ।
যেসব স্থানে গাড়ি পার্কিং নিষেধ
ঢাকার মহাখালি ক্রসিং থেকে টঙ্গী হয়ে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কের দুইপাশ, উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়ার বাইপাইল রাস্তার দুইপাশ, প্রগতি সরণিস্থ মধ্যবাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রগতি সরণিস্থ সড়কের দুই পাশ।
চিকিত্সা সেবা কার্যক্রম
ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিত্সাসেবা প্রদানে প্রথম পর্বে ব্যাপক প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে। ‘গাজীপুর সিভিল সার্জন টঙ্গী ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ১টি হূদরোগ ইউনিট, ১টি বক্ষব্যাধি/ এ্যাজমা ইউনিট, ১টি ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, ১টি বার্ন ইউনিট, ১২টি স্যানিটেশন টিম এবং ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়াও চক্ষু, বার্ন, মেডিসিন ও সার্জারিসহ বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞসহ ৬০ থেকে ৭০ জন চিকিত্সক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন।
ইজতেমায় বিদ্যুত্ সরবরাহ ব্যবস্থা
টঙ্গী ডেসকো সূত্রে জানা যায়, ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুত্ সরবরাহের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। উত্তরা, টঙ্গী সুপার গ্রিড ও টঙ্গী নিউ গ্রিডকে গতবারের মতোই মোট ১৩২ কেভি সোর্স হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে, যাতে করে একটি গ্রিড অকেজো হলেও বিদ্যুত্ সরবরাহ বিঘ্নিত না হয়।
পানি ও গ্যাস সরবরাহ
ইজতেমা আয়োজক তাবলিগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ওয়াসা, তিতাসসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ইজতেমা ময়দানের বিদেশি মেহমানখানায় ও ইজতেমা আয়োজকদের রান্না বান্নার প্রয়োজনীয় স্থানে গ্যাস সংযোগের কাজ সম্পন্ন করেছেন।
বিনামূল্যে চিকিত্সা প্রদান
টঙ্গী থানা প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ৯ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় পর্বের আখেরী মোনাজাতের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আসা অসুস্থ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সরবরাহ করবে। এছাড়াও হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশ, ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লি., বেক্সিমকো, স্কয়ার কোম্পানী, টঙ্গী ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি কর্তৃপক্ষসহ প্রায় ৪০টি ওষুধ কোম্পানী ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইজতেমা মাঠের উত্তরপার্শে নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলস মাঠে তৈরিকৃত স্টলে বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করবে।
ইজতেমা কমিটি ও প্রশাসনের বক্তব্য
ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ প্রায় ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতি বছরই মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। ইতিমধ্যে প্রথম পর্বে অংশ গ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ময়দানে স্ব-স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন। ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের স্বেচ্ছাসেবীদের প্রস্তুতি ছাড়াও ডেসকো, তিতাস, ওয়াসাসহ সরকারের সংশিষ্ট সেবাদানকারী সংস্থাগুলোও তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।