পুলিশের ওপর হামলা আবারো বেড়েছে

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:২৩

পুলিশ-র্যাবকে আবারো টার্গেট করা হয়েছে। অবরোধে পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের মনোবল ভেঙে দেয়ার তথ্য পেয়েছে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই তিন সংস্থার কর্মকর্তারা অনুসন্ধান চালিয়ে এর সত্যতাও পেয়েছেন। বিষয়টি সরকারের শীর্ষ মহলকে তারা জানিয়েছেন। যে মহলটি এ পরিকল্পনা করেছে, গোয়েন্দা সংস্থা তাদেরকে সনাক্ত করেছে। এর আগেও ঐ মহলটি র্যাব-পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছিল। গত বছর ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে ঐ মহলটি যে কায়দায় র্যাব-পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছিল, একই কায়দায় চলমান অবরোধেও হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অবরোধ ঘোষণা করলেও মাঠে বিএনপি নেতাকর্মীদের তেমন দেখা যায়নি। তবে জামায়াত-শিবির রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছে। কয়েকস্থানে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপর হামলাও চালিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী মহলটি হামলা শুরু করে। গতকাল সকালে বগুড়া মহাসড়কের ছিলিমপুরে পুলিশকে লক্ষ্য করে শিবিরকর্মীরা বোমা নিক্ষেপ করে। পুলিশ পাল্টা গুলি করলে তারা পালিয়ে যায়।
বগুড়ার পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক বলেন, এ হামলার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় লক্ষ্মীপুরের লতিফপুরে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে বোমা নিক্ষেপ করা হয়। এ হামলায় এএসআই জাহাঙ্গীর আলম ও কনস্টেবল আবু সিদ্দিক গুরুতর আহত হন। তাদেরকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার জন্য পুলিশ বিএনপি সমর্থিত জিসান গ্রুপের সদস্যদের দায়ী করেছে। জিসানের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বহু মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, জিসান তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদরের চন্দ্রগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এজাহারে ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাজশাহী মহানগরীর নওগাঁ মহাসড়কে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। তারা পুলিশের গাড়িতে আগুন দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ঐ সময় শিবিরকর্মীরা পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে বেদম প্রহার করে। হামলায় পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম, কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন ও জামালউদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার ৮ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শাহ মখদুম থানায় পুলিশের এসআই জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত ৮ আসামীকে গতকাল রাজশাহী মেট্রোপলিটন দ্বিতীয় আদালত দুইদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শাহ মখদুম (রহ:) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সায়েদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, পুলিশের উপর হামলা মামলায় ৪৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০/৭০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই সেলিম রেজা। আসামিরা সকলেই স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) এ কে এম শহীদুল হক বলেন, পুলিশকে টার্গেট করে হামলা চালিয়ে মনোবল ভাঙা সহজ নয়। অতীতেও তা প্রমাণ হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজারবাগে পুলিশ বাহিনী সর্বপ্রথম পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে। সেই পুলিশ বাহিনী মানুষের জানমাল রক্ষায় একচুলও ছাড় দিবে না। পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা করলে তাদের মনোবল আরো চাঙ্গা হবে। জীবন বাজি রেখে দেশে শান্তি বজায় রাখছে পুলিশ বাহিনী। হামলাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গত বছরের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংস ঘটনায় ২৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হয়েছেন। ঐ সময় রাজশাহীতে শিবির কর্মীরা অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পুলিশকে নির্মমভাবে প্রহার করেছিল। রাস্তায় ফেলে ইট দিয়ে মাথা থেতলে দেয়ার দৃশ্যও দেশ ও বিশ্ববাসী দেখেছে। হতাহত পুলিশ সদস্যদের মামলার তদন্ত চলছে ধীরগতিতে। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হলে  পুলিশ ও র্যাবকে টার্গেট করে হামলা করার সাহস পেত না। সেসময় চট্টগ্রামে র্যাবকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। তবে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আরো কয়েকটি স্থানেও তখন র্যাবের উপর হামলা হয়েছিল।

র্যাবের নয়া মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, র্যাবকে টার্গেট করে হামলার বিষয়ে আমরা অবহিত। একই মতামত দেন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান। দুই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, হামলা পরিকল্পনার তথ্য জেনে র্যাব যেকোনো সন্ত্রাসী হামলা সফলভাবে মোকাবেলা করে যাবে। যা অতীতেও র্যাব করেছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে র্যাবের পক্ষ হতে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে ওই দুই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান।